মানুষের জীবন আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বদলে দেবে এআই: বিল গেটস
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৯:৩০
মানুষের জীবনকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বদলে দেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেছেন বিল গেটস। তিনি বলেন, এআই মানুষের জীবনকে সহজ করবে। বিশেষভাবে ডাক্তারদের লেখালেখির কাজে সাহায্য করবে। সাধারণত কাগজপত্র প্রস্তুত করার কাজটি চিকিৎসকরা করতে আগ্রহী নয় ডাক্তাররা। এআই ব্যবহারের মাধ্যমে এই কাজ সহজ হয়ে যাবে। বিল গেটস আরও বলেন, ‘ওপেনএআইয়ের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ছিল ‘নাটকীয়’। কারণ এটি প্রকৃতপক্ষেই পড়তে ও লিখতে পারে। সুতরাং এটি পেশাদার কর্মীর মতো, যে কিনা শিক্ষক হতে পারে, স্বাস্থ্য পরামর্শ বা কোড লিখতে সাহায্য করতে পারে। শিক্ষা বা চিকিৎসাখাতে এই প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা ‘দারুণ’ হবে।
এআই প্রযুক্তির উত্থানের কারণে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারাবে বলে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরো বিশ্বে ৪০ শতাংশ চাকরির ওপর প্রভাব ফেলবে এআই। এই পরিস্থিতির স্বীকৃতি দিয়েও বিল গেটস মনে করেন, ঐতিহাসিকভাবেই প্রতিটি নতুন প্রযুক্তি নিয়ে নতুন ভয়ভীতি কাজ করে। তবে এতে নতুন সুযোগও তৈরি হয়। কৃষিপ্রযুক্তির উত্থানের উদাহরণ টেনে গেটস বলেন, ১৯০০ সালে কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়লে অনেকে ভাবত, এখন কী হবে। বাস্তবে তখন আরও নতুন চাকরির ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল। সবাই যখন খামারে কাজ করত করত সেই সময় থেকে, মানুষের অবস্থা আরও ভালো হয়।
ওপেনএআইয়ের সঙ্গে শত কোটি ডলারের অংশীদারত্ব রয়েছে মাইক্রোসফটের। আর গেটস কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডারদের একজন। সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে গেটস বলেন, ‘গেটস ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য হলো দরিদ্র দেশগুলোর লোকেদের সুযোগ–সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি ধনী দেশগুলোর মতো দ্রুত নিশ্চিত করা। যেমন, পশ্চিমের তুলনায় আফ্রিকাতে চিকিৎসক ও শিক্ষকের ঘাটতি অনেক বেশি।’ তবে এই সপ্তাহে প্রকাশিত আইএমএফের প্রতিবেদনে এআই নিয়ে কম আশাবাদ পোষণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, রাজনীতিবিদরা ইতিবাচক হস্তক্ষেপ না করলে এআই মানুষের মধ্যে বৈষম্য বাড়াবে।
বর্তমানে গেটসের সম্পদের পরিমাণ ১৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ব্লুমবার্গ বিলিওনিয়ারস নির্দেশক অনুযায়ী, বিশ্বের চতুর্থ ধনী ব্যক্তি হলো গেটস। যদি তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ দান করে না দিতেন, তবে তিনি এখনো বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে থাকতেন। তিনি নিজের সম্পদের হারানোর ভয় করেন না। তিনি বলেন, ‘নিজের ব্যবহারের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ আমার কাছে আছে। নিজেকে বিশ্বের ধনীর তালিকায় নিচে নামিয়ে এনেছি এবং যখন আমি তালিকায় থাকব না, তখন আমি গর্বিত হব।’
২০২২ সালে গেটস বলেন, তাদের ফাউন্ডেশনের লাখ হলো ২০২৬ সালের মধ্যে ৯ বিলিয়ন অর্থ বিলিয়ে দেওয়া। তাঁদের এই অর্থ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন গেটস। গেটস ছাড়াও ওয়ারেন বাফেটের মতো অংশীদাররা তার ফাউন্ডেশনে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার দান করেছেন। প্রতি বছরে ৯ বিলিয়ন ডলার হারে অর্থদানের মাধ্যমে প্রায় ২০ বছরের মধ্যে তার সমস্ত অর্থ প্রদান করবেন গেটস।
ইউডি/এজেএস

