ছুটির দিনে বাণিজ্য মেলায় উপচেপড়া ভিড়
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৮:০০
রাজধানীর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ চীন মৈত্রী এক্সিবিশন সেন্টারে (বিবিসিএফইসি) ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু হওয়ার পর প্রথম ছুটির দিনেই জমে উঠেছে মেলা। প্রথম ছুটির দিন উপলক্ষে মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। সকাল থেকেই ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করেছে দর্শনার্থীর সংখ্যাও।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকাল থেকে মেলা প্রাঙ্গণে সরেজমিনে ঘুরে এমনটাই দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাণিজ্য মেলার ৫ম দিনে সকাল থেকেই মেলার প্রধান প্রবেশদ্বারে রয়েছে দীর্ঘ লাইন। কেউ এসেছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ এসেছেন বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে। তবে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগই মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে ছবি তুলে সময় কাটাতে দেখা গেছে। আবার অনেকে পছন্দের পণ্যটি খুঁজছেন এবং কেনাকাটা করছেন।
এদিন বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়নে ক্রেতাদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে নানা ধরনের ছাড় ও উপহার। গৃহস্থালির সামগ্রী, পোশাক, ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র সহ প্রায় সবকিছুতেই ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা গেছে। এ সময় বিক্রেতাদেরও ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে।
মেলায় আসা দর্শনার্থীরা জানান, বিভিন্ন পণ্য একসঙ্গে দেখার ও কেনার সুযোগ পেয়ে তারা খুশি। ছুটির দিন থাকায় আজ অধিকাংশ দর্শনার্থীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় এসেছেন। মেলায় ঘুরে দেখা ও কেনাকাটা করার জন্য তারা বেশ আনন্দিত।
মেলায় ক্রেতা দর্শনার্থী বাড়ায় খুশি আয়োজক ও ব্যবসায়ীরা। তবে মাসের শেষ শুক্রবার না হলে ক্রেতাদের চাপ আরও বাড়তো বলে মনে করছেন তারা।
ক্রেতা-দর্শনার্থী দেখা যায়নি। তবে আজ ছুটির দিনে দর্শনার্থী অনেক বেশি। বিক্রিও বেড়েছে। আগামী মাসের শুরু থেকে মেলা জমে উঠছে বলে জানান বিক্রেতারা।
মেলা যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো। সাধারণত ইংরেজি বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে মেলা শুরু হলেও এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত সময়ের পর মেলা শুরু হয়েছে।
মেলায় নিরাপত্তার ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মেলা প্রাঙ্গণে মোতায়েন রয়েছেন।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পক্ষ থেকে জানায়, এবারের বাণিজ্য মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরাঁ ও স্টলের মোট সংখ্যা ৩৫১টি, যা বিগত বছর ছিল ৩৩১টি। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এক্সিবিশন সেন্টারের ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩০০ বর্গফুট আয়তনের দুটি হলে (এ ও বি) ১৭৪টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সেন্টারের প্রধান ফটকের পূর্বপাশে বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়নসহ প্রিমিয়ার ও সংরক্ষিত ক্যাটাগরির স্টল রয়েছে ৬২টি। হলের পেছনে ফরেন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন এবং প্রিমিয়ার ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়নসহ প্রিমিয়ার ও সংরক্ষিত ক্যাটাগরির স্টল রয়েছে ৫৩টি।
সেন্টারের মূল কম্পাউন্ডের বাইরে ৬ একর জমির একাংশে ফুড জোন (৩২টি রেস্তোরাঁ ও মিনি রেস্তোরাঁ) এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত ক্যাটাগরির স্টল রয়েছে ৬২টি।
বাণিজ্য মেলায় প্রবেশমূল্য
পাশাপাশি গত বছরের তুলনায় এ বছর মেলায় প্রবেশমূল্যও বেড়েছে। এ বছর সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ৫০ টাকা ও ১২ বছরের কম বয়সীদের জন্য ৩০ টাকা টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে। গত বছর যা ছিল যথাক্রমে ৪০ ও ২০ টাকা।
বাণিজ্য মেলার সময়সূচি
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। তবে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে।
বাণিজ্য মেলায় যাবেন যেভাবে
মেলায় দর্শনার্থীদের যাতায়াতের জন্য রাজধানীর ফার্মগেট ও কুড়িল বিশ্বরোড থেকে আলাদা বাস ছাড়বে। মেলায় আসতে ফার্মগেট থেকে ৭০ টাকা ও কুড়িল থেকে ৩৫ টাকা মূল্যের টিকিট কাটতে হবে দর্শনার্থীদের।
ইডিডি/এআর

