গাজা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়: গণহত্যা ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ, ইসরায়েল এখন কী করবে?

গাজা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়: গণহত্যা ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ, ইসরায়েল এখন কী করবে?

উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১২:৩০

গাজায় গণহত্যা সংঘটিত যেন না হয় তার ব্যবস্থা নিতে ইসরায়েলকে নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। এখন কী করবে নেতানিয়াহু প্রশাসন। এ নিয়ে আরাফাত রহমান’র প্রতিবেদন

নেই সামরিক অভিযান বন্ধের নির্দেশনা: প্যালেস্টাইনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গণহত্যা সংঘটিত থেকে ইসরায়েলকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) দেওয়া অন্তবর্তীকালীন রায়ে আদালতের প্রেসিডেন্ট মার্কিন বিচারক জে দোঙ্গু বলেন, আদালত ইসরায়েলকে নির্দেশ দিচ্ছে, গাজায় গণহত্যা সংঘটিত যেন না হয় সেজন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয়তা ব্যবস্থা নিতে হবে। রায়ে আদালত ইসরায়েলকে আরও নির্দেশ দেন, সেনারা যেন কোনো ধরনের গণহত্যা সংঘটিত না করেন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং গণহত্যার নির্দিষ্ট (অভিযুক্ত) প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। তবে যেটি ধারণা করা হয়েছিল, গাজায় ইসরায়েলকে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের নির্দেশ আদালত দেবেন; সে ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। গাজায় আগ্রাসন ও গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে গত বছরের শেষের দিকে আইসিজেতে মামলা দায়ের করে দক্ষিণ আফ্রিকা। চলতি মাসের শুরুতে আদালতে মামলাটির দুই দিনের শুনানি হয়। শুনানিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়, আদালত যেন জরুরি ভিত্তিতে ইসরায়েলকে গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধের নির্দেশ দেয়। এছাড়া, জেনোসাইড কনভেনশনের আওতায় ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের সুরক্ষার তাগিদও দেওয়া হয়। অবশ্য ইসরায়েল আদালতকে এই মামলাটি সরাসরি খারিজ করে দিতে বলেছিল। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছিলেন, তারা আশা করছেন- জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত ‘এই মিথ্যা এবং বিশেষ অভিযোগগুলোকে ছুড়ে ফেলে দেবে’।দক্ষিণ আফ্রিকা দুই সপ্তাহ আগে অভিযোগ করে, ইসরায়েলের আকাশ ও স্থল আক্রমণের লক্ষ্য গাজার ‘জনসংখ্যাকে ধ্বংস’ করা। আইসিজের যে ১৭ জন বিচারকের প্যানেল শুক্রবার এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তাদের মধ্যে ১৫ জন স্থায়ী বিচারক। এর বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইসরায়েলের একজন করে বিচারক রয়েছেন।

‘সুস্পষ্ট বিজয়’ বলল দক্ষিণ আফ্রিকা: এই রায়কে আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের ‘সুস্পষ্ট বিজয়’ বলে অভিহিত করেছে বাদী দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্রæত এই সাময়িক রায় দেওয়ার জন্য আইসিজেকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেশটির সরকার বলেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা অস্থায়ী এই রায়কে স্বাগত জানায়। একই সঙ্গে দেশটি আন্তরিকভাবে আশা করে, ইসরায়েল আদালতের আদেশের ব্যত্যয় ঘটাবে না। দেশটি আরও বলেছে, এই রায়টি প্যালেস্টাইনি জনগণের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এক মাইলফলক। দক্ষিণ আফ্রিকা গাজায় ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে বলেও জানানো হয়েছে। আইসিজের কাছে নয়টি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান স্থগিত করা, আরও মানবিক ত্রাণ সহায়তার অনুমোদন এবং সম্ভাব্য লঙ্ঘনের বিষয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার এর মধ্যে অন্যতম। এই সবগুলো আবেদন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। গণহত্যা চালানোর অভিযোগে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসরায়েল বলেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সত্য বিকৃত করছে। ইহুদী রাষ্ট্রটির দাবি, আত্মরক্ষার অধিকার তার রয়েছে এবং প্যালেস্টাইনি বেসামরিক নাগরিকরা নয়, তাদের লক্ষ্য শুধু হামাসের যোদ্ধারা। দক্ষিণ আফ্রিকার আবেদনটি অতি বিকৃত‘ এবং এতে ‘অস্তিত্বহীন গণহত্যার ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে’, এমন যুক্তি তুলে ধরে তা বাতিলের জন্য আদালতে বিচারকদের কাছে আবেদন করেছিল ইসরায়েল।

আইসিজে’র রায়ে কী কী আছে: আইসিজে তার অন্তবর্তীকালীন রায়ে আরও বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার যে অভিযোগ দক্ষিণ আফ্রিকা তুলেছে; সেসব অভিযোগের সঙ্গে কিছু বিষয়ের মিল রয়েছে। এ কারণে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এ মামলা চলবে। বিচারক জে দোঙ্গু তার রায়ে আরও বলেন, তারা ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বক্তব্য নোট করেছেন। যার মধ্যে তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের ৯ অক্টোবরের একটি বক্তব্য পড়ে শোনান। ওই বক্তব্যে গ্যালান্ট বলেন, তিনি গাজায় পূর্ণ অবরোধ আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেনাদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি মন্তব্য করেন গাজায় ‘অমানুষদের’ বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন তারা। রায়ে বলা হয়, গাজা উপত্যকায় পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পৌঁছতে দিতে হবে এবং গাজার সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে হবে। এছাড়া ত্রাণ পৌঁছানো এবং গণহত্যা প্রতিরোধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সে ব্যাপারে এক মাসের মধ্যে আদালতের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে দখলদার ইসরায়েলকে।


রায়ে প্রধান ৬টি নির্দেশ দিয়েছে আদালত-ইসরাইলকে অবশ্যই গণহত্যা বলে বিবেচিত হতে পারে এমন যে কোনো কাজ প্রতিরোধ করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে নিতে হবে।ইসরাইলকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, তার সামরিক বাহিনী কোনো গণহত্যামূলক কাজ করবে না।
ইসরাইলকে অবশ্যই গাজায় গণহত্যার জন্য উস্কানি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে এমন কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য প্রতিরোধ করতে হবে এবং মন্তব্যকারীকে শাস্তি দিতে হবে।ইসরাইলকে অবশ্যই গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।ইসরাইলকে অবশ্যই গণহত্যার মামলায় ব্যবহার করা যেতে পারে এমন প্রমাণ ধ্বংস করার কোনো প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করতে হবে।আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের দেওয়া নির্দেশের কার্যকরের অগ্রগতি আগামী এক মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন আকারে আদালতে দাখিল করতে হবে। আইসিজে-এর বিচারক জে দোঙ্গু এর আগে বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে করা মামলায় রায় দেওয়ার এখতিয়ার এ আদালতের রয়েছে এবং ইসরায়েলের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তারা এই মামলা খারিজ করে দেবেন না।

আইসিজে’র সিদ্ধান্ত মানার বাধ্যবাধকতা: জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আইনি সংস্থা আইসিজে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত এই আদালত দুই দেশের মধ্যে বিরোধ মেটাতে পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন। আইসিজের দেওয়া সিদ্ধান্ত মেনে চলার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে তা মানার জন্য কোনো দেশের ওপর খুব কম শক্তিই খাটাতে পারেন এই আদালত। আইসিজের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ নেই।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন নেতানিয়াহু: রায়ের পর একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ইসরায়েল এমন একটি যুদ্ধ লড়ছে, যা অন্য কোনো যুদ্ধের মতো নয়। তিনি আরো বলেন, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন মেনে দেশ ও নাগরিকদের রক্ষা অব্যাহত রাখবে। এদিকে দেশটির কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির আদালতের রায়ের পর এক টুইটবার্তায় আইসিজেকে উপহাস করেছেন।
এই রায়ের আগে টেলিভিশনে প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, কেউ আমাদের থামাতে পারবে না, দ্য হেগ নয়, শয়তানের অক্ষ নয়, অন্য কেউ নয়। ‘দ্য হেগ’ বলতে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) কথা বুঝিয়েছেন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোটকে ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ বলে ডাকা হয়। যাকে ‘শয়তানের অক্ষ’ বলেছেন নেতানিয়াহু।গাজায় হামলা বন্ধ করার যে কোনো আদেশ ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক অবস্থানের জন্য একটি বড় আঘাত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ মামলার বিষয়ে নীরব থাকলেও ইসরায়েল তার এক নম্বর সমর্থক এবং অস্ত্র সরবরাহকারী আমেরিকার সমর্থন পেয়েছে। তা সত্তে¡ও ইসরায়েল ভীষণ চাপে পড়েছে। চাপে পড়ে ইসরায়েল সরকার ও সামরিক নেতাদের প্রণীত ৩০টির বেশি গোপন আদেশ প্রকাশ করেছে তেল আবিব। এতে দেখানো হয়, গাজায় প্যালেস্টাইনি বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু কমানোর জন্য ইসরায়েল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ইসরায়েলি নেতাদের উত্তেজক বিবৃতির ওপর নির্ভর করে বলেছে, এতে গণহত্যার অভিপ্রায়ের প্রমাণ মিলেছে। তবে ইসরায়েল গোপন নথি প্রকাশ করে দেখানোর চেষ্টা করেছে, রাজনীতিবিদরা জনসমক্ষে যা কিছু বলেছেন তা ইসরায়েলের যুদ্ধ মন্ত্রিসভা এবং তার সামরিক বাহিনীর হাইকমান্ডের নির্বাহী সিদ্ধান্তে বাতিল করা হয়েছে। গাজা নিয়ে আইসিজের রুলিং আদেশ পেতে তিন থেকে চার বছর লেগে যেতে পারে।

জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে মুক্তি: আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) যদি গাজায় যুদ্ধবিরতির আহŸান জানিয়ে রুল দেন, সে ক্ষেত্রে ইসরায়েল যতক্ষণ তা মেনে চলবে, হামাসও ততক্ষণ মানবে। তবে আদালত থেকে তেমন কোনো নির্দেশনা আসে নি। গাজাভিত্তিক প্যালেস্টাইনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের পক্ষ থেকে আগেই এমনটা জানানো হয়েছিল। হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওসামা হামদান এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানিয়েছিলেন। ওসামা হামদান বলেন, ইসরায়েল যদি সব প্যালেস্টাইনি বন্দীদের মুক্তি দেয়, তাহলে হামাস গাজায় থাকা সব ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে।

গাজায় দুর্ভিক্ষ অতি নিকটে: বেসরকাররি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অ্যাকশনএইড জানিয়েছে, গাজা উপত্যকার মানুষ খাবারের এতটাই অভাবে পড়েছেন যে তারা এখন পশুপাখির খাবার গুঁড়া করে সেগুলো দিয়ে আটা তৈরি করে খাচ্ছেন। সংস্থাটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, গাজায় এখন দুর্ভিক্ষ অতি নিকটে রয়েছে। নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, গাজায় খাদ্যের অভাব ‘বিপর্যয়কর’ পরিস্থিতিতে পৌঁছাচ্ছে। গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার প্রত্যেকে এখন তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে। কেউ কেউ খাবারের জন্য এতটাই মরিয়া যে তারা এখন পশুপাখির খাবার গুড়া করে সেগুলো আটা হিসেবে ব্যবহার করছেন। গাজায় দুর্ভিক্ষ চোখ রাঙানি দিচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। সেখানে ত্রাণ পৌঁছানো খুবই কঠিন। বিশ্ব খাদ্য পোগ্রাম জানিয়েছে, গাজায় বর্তমানে পাঁচ বছরের কম বয়সী যে ৩ লাখ ৩৫ হাজার শিশু রয়েছে; তারা কেউ পর্যাপ্ত পুষ্টি পাচ্ছে না। যা তাদের বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত এবং দীর্ঘকালীন শারীরিক জটিলতা তৈরি করছে। শিশুদের পাশপাশি মায়েরাও পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন। কিছু মা পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ায় দুগ্ধজাত শিশুদের দুধও পান করাতে পারছেন না। ছয় সন্তানের এক মাÍ যিনি চলমান যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর আরেকটি শিশুর জš§ দিয়েছেনÍ তিনি জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত দুধ উৎপন্ন না হওয়ায় এবং বাজারের খোলা দুধের দাম বেশি হওয়ায় তিনি তার সন্তানকে এখন দুধও দিতে পারছেন না। বর্তমানে এক কৌটা দুধের দাম ৭০ থেকে ৮০ শেকেল।

নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ২৬ হাজার: ইসরায়েলি স্থল ও বিমান বাহিনীর অভিযানে গত সাড়ে তিন মাসে গাজায় নিহতের মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ২৬ হাজার ৮৩ জনে পৌঁছেছে। এই নিহতদের পাশাপাশি মোট আহত হয়েছেন আরও ৬৪ হাজার ৪৮৭ জন।
এছাড়া গত ইসরায়েলি বাহিনীর বোমায় গত একদিনে গাজায় নিহত হয়েছেন ১৮৩ জন প্যালেস্টাইনি এবং আহত হয়েছেন ৩৭৭ জন। শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ইরেজ সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সামরিক-বেসামরিক ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিকসহ ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করে গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। সেই সঙ্গে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় আরও ২৪০ জন ইসরায়েলি এবং অন্যান্য দেশের নাগরিককে। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর গত ৭৫ বছরের ইতিহাসে সেদিন প্রথম একদিনে এতজন মানুষের হত্যা দেখেছে ইসরায়েল। অভ‚তপূর্ব সেই হামলার জবাবে সেদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী এবং তার এক সপ্তাহ পর বিমান বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও। সেই অভিযানেই নিহত হয়েছেন এই ২৬ হাজার ৮৩ জন। নিহতদের একটি বড় অংশই নারী, শিশু এবং কিশোর-কিশোরী। গত ২৫ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষিত এক মানবিক বিরতির সময় ১০৮ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। তবে এখনও এই গোষ্ঠীটির হাতে আটক রয়েছেন ১৩২ জন জিম্মি। এই জিম্মিদের ছাড়িয়ে আনতে ফের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করার আগ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান বন্ধ হবে না।

এক-তৃতীয়াংশের বেশি মার্কিনী যা বলছে: আমেরিকার এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ বিশ্বাস করেন, প্যালেস্টাইনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে। জরিপটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে ব্রিটিশ সাপ্তাহিক দ্য ইকোনমিস্ট ও ইন্টারনেটভিত্তিক জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ইউগভ। জরিপে দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনেদের ৩৫ শতাংশ মনে করেন, প্যালেস্টাইনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আসলে গণহত্যা। তবে ৩৬ শতাংশ ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এটি গণহত্যা নয়। বাকি ২৯ শতাংশ নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। জরিপ বলছে, তরুণ মার্কিনদের (১৮-২৯) মধ্যে এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। প্রায় অর্ধেক (৪৯ শতাংশ) মার্কিন মনে করেন, এটি গণহত্যা। ২৪ শতাংশের মতে, এটি গণহত্যা নয় এবং ২৭ শতাংশ নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ বিশ্বাস করেন, ইসরায়েলের কর্মকাøে গণহত্যার বৈশিষ্ট্য আছে। ২১ শতাংশ মনে করেন, এটি গণহত্যা নয় এবং ৩০ শতাংশ নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। এর বিপরীতে ইসরায়েলের পক্ষে রিপাবলিকানদের সমর্থন বেশি। ৫৭ শতাংশ রিপাবলিকানের ভাষ্য, এটা গণহত্যা নয়। মাত্র ১৮ শতাংশ বিশ্বাস করেন, গাজায় গণহত্যা চলছে এবং ২৫ শতাংশ কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ২৭ জানুয়ারি ২০২৪ । প্রথম পৃষ্ঠা

কাতারের সঙ্গে বসছে আমেরিকা-ইসরায়েল: গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের মুক্তির জন্য কাতার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইসরায়েল ও আমেরিকার গোয়েন্দা প্রধানরা। মূলত গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে কাতার। এক্ষেত্রে এর আগেও একবার দুই পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে দেশটি। জানা গেছে, সিআইএর উইলিয়াম বার্নস ও মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া এই সপ্তাহের শেষের দিকে ইউরোপে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন প্যালেস্টাইনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে এখনো প্রায় ১৩০ ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্ত করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
এদিকে প্যালেস্টাইনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লোহিত সাগর দিয়ে চলাচল করা জাহাজে হামলা শুরু করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। ফলে গত দুই মাসে সেখান দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমেছে ৪৫ শতাংশ।
আমেরিকা নানা পদক্ষেপেও কমানো যাচ্ছে না বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির হামলা। তাদের দাবি গাজায় যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা কার্যকর করা। হুথিদের হামলার পর থেকেই শিপিং কোম্পানিগুলো লোহিত সাগর থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। এতে পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে।

ইউডি/এজেএস

Taanjin

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading