জর্ডানে মার্কিন সেনা হত্যায় ছড়াচ্ছে উত্তাপ: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কালো ছায়া, বাইডেনের নিশানায় ইরান
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৫:৩০
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পেছনে ইরানকে দায়ি করেছে আমেরিকা। তাতে বাইডেনের নিশানায় ইরান। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংকট আরও বাড়ছে। এ নিয়ে আরেফিন বাঁধন’র প্রতিবেদন
সংকট-সংঘাত আরও বাড়ার শঙ্কা: জর্ডানে গত রবিবারের ড্রোন হামলায় তিন মার্কিন সেনার নিহতের ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংকট বাড়ার শঙ্কা জাড়ছে। সিরিয়ার সীমান্তবর্তী জর্ডানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ওই ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে এক বিবৃতিতে জানায় মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সিইএনটিসিওএম)। এ হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৪ জন সেনাসদস্য। জর্ডানে হামলার পেছনে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে এই হামলায় জড়িত গোষ্ঠীর সঙ্গে তেহরানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আমেরিকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান। কাকতালীয়ভাবে মধ্যপ্রাচ্যে একই সময়ে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। ফ্রান্সে জিম্মি মুক্তির ব্যাপারে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা যখন চলছে, তখন জর্ডানে মার্কিন সেনাদের নিহত হওয়ার ঘটনায় মার্কিন কর্মকর্তারা হতবিহ্বল। বলা যায়, গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর যে সহিংসতার সূত্রপাত, তা এখন সবচেয়ে উত্তেজনাকর মুহূর্ত পার করছে। জর্ডানে হামলার পর এই সংকটে আমেরিকা আরও প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকগণ।
ওয়াশিংটন স্টেটের প্রতিনিধি ও হাউস আর্মড সার্ভিস কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতা অ্যাডাম স্মিথ বলেছেন, চলমান সংকট বিপজ্জনক দিকে মোড় নিয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি সংঘাত যেন আর না বাড়ে। কিন্তু হতাহতের ঘটনায় আমেরিকার জবাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে, যেন এ ধরনের হামলা আর না হয়। আমি জানি, প্রেসিডেন্ট বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের লাখ লাখ বাসিন্দা ও এই অঞ্চলের ভবিষ্যত্ মাথায় রেখে ওয়াশিংটন ও মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা পরিস্থিতির পরিবর্তনে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে গভীর আলোচনায় রত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইতিমধ্যে ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্য ও নিজ দেশের ভেতরে কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে, তা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিশোধের মাত্রা ঠিক করতে হবে তাকে, কারণ, সামনেই নির্বাচন। ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও শতাধিক ইসরায়েলির জিম্মিদশা নিয়ে দেশের ভেতরে প্রচ্ল চাপে আছেন। বলা হচ্ছে, জিম্মি মুক্তির জন্য ইসরায়েলকে এখন হামাসের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধে দীর্ঘ বিরতি দিতে হবে। এদিকে এই সংকট বাড়িয়ে তুলতে পারে ইরান। তারা কি এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা জারি রাখতে চায়? কারণ, এতে তারা আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। প্রতিটি পক্ষ কীভাবে এগোয়, তার ওপর নির্ভর করবে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের ভবিষ্যত্ এবং এই ইস্যু নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার গতিপথ। মার্কিন সেনাসদস্যদের মৃত্যু যখন আঞ্চলিক যুদ্ধের আরও বিস্তৃতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, মার্কিন কর্মকর্তারা তখন এ অঞ্চলের উত্তেজনা প্রশমনের জন্যও একটি চুক্তিতে পৌঁছানো অনেক বেশি জরুরি বলে মনে করছেন।

জো বাইডেন
কঠিন পরীক্ষার মুখে বাইডেন: গত বছরের অক্টোবরে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীকে ইরাক, সিরিয়া, জর্ডান এবং ইয়েমেন উপকূল থেকে ইরান-সমর্থিত বাহিনী ১৫০ বারেরও বেশি আক্রমণ করেছে। তবে জর্ডানে রবিবারের হামলার আগ পর্যন্ত আগের কোনও হামলাতেই মার্কিন সেনা নিহত কিংবা এত বেশি সেনা আহত হয়নি। আর এ কারণেই এবার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুংকার দিয়েছেন জো বাইডেন। ইরানে সরাসরি হামলা করার জন্য তার ওপর রাজনৈতিক চাপও তাই আরও বেড়ে গেছে। নিজের নির্বাচনী বাস্তবতা ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং আমেরিকার পদক্ষেপ নিয়ে কঠিন পরীক্ষার মধ্যেই পড়েছেন জো বাইডেন, মনে করেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেণকগণ।
গাজা সংকট বাইডেন যেভাবে মোকাবিলা করেছেন, তাতে বামপন্থীরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। এর মধ্যেই তাকে পুনর্নির্বাচনের পথে হাঁটতে হচ্ছে। তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি কী সিদ্ধান্ত নেন, রাজনৈতিকভাবে তা এখন খুবই তাত্পর্যপূর্ণ।
জর্ডানে ড্রোন হামলায় আমেরিকার তিন সেনাসদস্য নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, আজ আমেরিকার হূদয় দুঃখভারাক্রান্ত। সঠিক সময়ে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। এ হামলার পেছনে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাত রয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে বাইডেন বলেছেন, হামলার বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। তবে আমরা জানি সিরিয়া ও ইরাকে তত্পর ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এ হামলা চালিয়েছে। হামলায় নিহত তিন সেনাকে দেশপ্রেমিক বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছেন, আমরা তাদের পরিবারের প্রতি আমাদের পবিত্র দায়িত্ব পালন করে যাব। আমরা তাঁদের বীরত্ব ও সম্মানের মূল্য দেওয়ার চেষ্টা করব। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁদের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা আমরা ধরে রাখব।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দিয়ে প্রচারাভিযানের মাঠে থাকা রিপাবলিকানরা বাইডেনের ওপর চাপ বাড়াতে একটুও কালক্ষেপণ করেনি। জর্ডানে ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনাকে আমেরিকার জন্য ভয়ংকর দিন বলে উল্লেখ করেছেন রিপাবলিকান দলের সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। ট্রাম্প এবং তার রিপাবলিকান মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রতিপক্ষ নিকি হ্যালিসহ আরও কয়েকজন বিশিষ্ট রিপাবলিকান জর্ডানের ঘাঁটিতে হামলার ঘটনার জন্য জো বাইডেনের দুর্বলতা ও তার ইরান নীতিকে দায়ী করেছেন। বাইডেনের উদ্দেশে রাজনৈতিক আক্রমণ চালিয়ে নিক্কি হ্যালি বলেন, জো বাইডেন যদি ইরানের বিরুদ্ধে এত দুর্বল পদক্ষেপ না নিতেন, তাহলে ইরান কখনোই মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারত না।
রিপাবলিকানদের অনেকেই বলছে, মার্কিন বাহিনী সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করেছে যখন একটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র এসে সামরিক ঘাঁটির প্রতিরক্ষা ছিন্নভিন্ন করে দেবে। রিপাবলিকান নেতা এবং মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে মার্কিন মিলিটারি ওভারসাইট কমিটির নেতৃত্বে থাকা মাইক রজার্সও তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী ইরান সরকার এবং তাদের চরমপন্থি দোসরদের যারা এই হামলা চালিয়েছে তাদের জবাবদিহি আরও আগেই করা উচিত ছিল বাইডেনের। বাইডেন প্রশাসন বলেছে, বিশ্বজুড়ে মার্কিন সেনাদের রক্ষায় তার প্রশাসন অনেক চেষ্টাই করে থাকে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট কি ইরানে হামলা চালাবেন?: বিরোধীদের চাপে পড়ে বাইডেন কি ইরানে সরাসরি হামলা চালাবেন? এ প্রশ্নটি ঘুরে ফিরে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে কয়েকটি অপশনের কথা ভাবতে পারে বাইডেন প্রশাসন। প্রথমত, দায় স্বীকার না করে ইরানের কোনো সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো। দ্বিতীয়ত, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশে ইরান সহায়তাপুষ্ট গোষ্ঠীদের ওপর বড় ধরনের হামলা চালানো। তৃতীয়ত, ২০২০ সালে কাসেম সোলাইমানিকে ইরাকে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যা করার মতো অভিযানের মাধ্যমে ইরানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকাশ্যে বা ঘোষণা দিয়ে বাইডেন প্রশাসনের ইরানে হামলা চালানোর সম্ভাবনা খুব কম। কারণ এমনটি করলে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের জন্য তা বাঁচামরার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। তারাও মরণকামড় দেবে। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের যুদ্ধে ঢুকে যাবে। এ মুহূর্তে আমেরিকা এমন একটি যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা নেই বলে মনে করছেন তারা। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা একটি মাধ্যমে ইরান এবং তাদের সমর্থনপুষ্ট বাহিনীগুলো জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা তাদের বন্ধ করতে হবে। তবে এরপরও ড্রোন হামলা ঠেকানো যায়নি। হোয়াইট হাউস অবশ্য আগেই এ ধরনের কিছু ঘটবে, এই আশঙ্কা করেছিল। আশঙ্কা সত্যি হওয়ার পর কর্মকর্তারা বলছেন, প্রেসিডেন্ট জোরালো অভিযান চালানোর পক্ষপাতি। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন, জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শক জেক সুলিভানসহ জাতীয় নিরাপত্তা দলের কর্মকর্তারা দফায় দফায় আলোচনায় বসেন। ওই সব বৈঠকে হামলার ধরন ও আমেরিকা সম্ভাব্য জবাব কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা জিম্মি চুক্তির ব্যাপারেও অগ্রসর হচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে গাজায় একটি দীর্ঘ যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। আশা করা হচ্ছে, এই বিরতি এ অঞ্চলের উত্তেজনা প্রশমনে সহায়ক হবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, যুদ্ধবিরতির দৈর্ঘ্য বাড়লে গাজায় ত্রাণসহায়তা আরও বেশি পরিমাণে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে। তা ছাড়া ইসরায়েল কীভাবে ভবিষ্যতে হামাসকে মোকাবিলা করবে, তা নিয়েও আলাপ-আলোচনার সুযোগ পাবে।

নাসের কানানি
অভিযোগ অস্বীকার করে যা বলল ইরান: জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় ইরান জড়িত বলে যে অভিযোগ আমেরিকা করেছে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি সোমবার বিষয়টি জানিয়েছেন।
তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক নামে একটি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। পশ্চিমা বিশ্বের দাবি, এই গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের সরাসরি সংযোগ রয়েছে। জর্ডান সীমান্তের টাওয়ার-২২ নামে ওই সেনাঘাঁটিতে হামলার পরপরই ইরানকে অভিযুক্ত করে বাইডেন বলেন, আমরা জানি, এটি সিরিয়া ও ইরাকে সক্রিয় ইরান সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠী চালিয়েছিল। তবে বাইডেনের অভিযোগ অস্বীকার করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি বলেন, আমরা আগেও স্পষ্টভাবে বলেছি, এই অঞ্চলের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার জবাব দিচ্ছে। তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আজ্ঞাবহ নয়, তারা ইরান থেকে আদেশও নেয় না। এই গোষ্ঠীগুলো তাদের নিজস্ব নীতি ও অগ্রাধিকারের পাশাপাশি তাদের দেশ ও জনগণের স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়, কাজ করে।
দায় স্বীকার করা ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স কারা: জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। রবিবার ওই হামলার পর সোমবার ইসরায়েলেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। তারা বলেছে, প্যালেস্টাইনিদের সহায়তা করতে ‘দখলকৃত প্যালেস্টাইনি ভূমিতে’ ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার স্থান ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কিছু জানায়নি সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।
ইসরায়েলবিরোধী ইরাকের সশস্ত্র সংগঠনটি আরও বলেছে, সোমবার সকালে হামলা করা হয়েছে। এই হামলা অব্যাহত থাকবে।
হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কতদূর?: হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এখন অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ যুদ্ধবিরতি ও জিম্মীদের মুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও নেই কোনো আশার আলো। আন্তর্জাতিক আদালত আইসিজে সম্প্রতি ইসরালেকে নির্দেশ দিয়েছে যে গাজায় গণহত্যা ঠেকাতে ব্যবস্থা নিতে। একইসঙ্গে আদালত বলেছে এক মাসের মধ্যে পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে তার ব্যাখ্যা দিতে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার করা এই মামলার রায়ের পরও থেমে নেই ইসরায়েলের হামলা। গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। ইসরায়েলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রবিবার হওয়া এ বৈঠকে মিসর, কাতার ও আমেরিকার প্রতিনিধিরা ছিলেন। গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কিছু বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলেও এখনো আলোচনায় অনেক ‘ফাঁক’ থেকে গেছে।ওই বৈঠকে আমেরিকার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রধান উপস্থিত ছিলেন। কীভাবে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। বৈঠক চলাকালে কোনো কোনো সংবাদ সংস্থা জানায়, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে সব পক্ষ। যেখানে ইসরায়েলের দাবি, অন্তত ১০০ বন্দীকে মুক্তি দিতে হবে। এর বদলে তারা দুই মাসের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে বলা হয়, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও অনেক ফাঁক আছে। চলতি সপ্তাহে আবার বৈঠক হবে। আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকেও খারিজ করা হয়নি। ওয়াশিংটন স্টেটের প্রতিনিধি ও হাউস আর্মড সার্ভিস কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতা অ্যাডাম স্মিথ বলেছেন, যুদ্ধের এই বিস্তারকে গাজা পরিস্থিতি থেকে পৃথক করার সুযোগ নেই। উল্লেখ্য, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে ২৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং পুরো অঞ্চলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। স্মিথ বলেন, গাজায় যা হচ্ছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাজার যুদ্ধ ইরানকে আরও ক্ষমতায়িত করেছে। এই পরিস্থিতি আমেরিকা, ইসরায়েল, অন্যান্য আরব দেশ, গোটা বিশ্বেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও এখন চ্যালেঞ্জের অংশ।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ৩০ জানুয়ারি ২০২৪ । প্রথম পৃষ্ঠা
উত্তেজনা বাড়াচ্ছে হুথি বিদ্রোহীরা: গাজা সংকট মধ্যপ্রাচ্যে বানের স্রোতের মতো নতুন একগুচ্ছ সংকটের দুয়ার খুলে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও আমেরিকা ও ব্রিটেন হুথিদের ওপর হামলা শুরু করেছে। আর লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইরান-সমর্থিত হুথিরা গাজা যুদ্ধকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। লোহিত সাগর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এডেন উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি ওই মার্কিন নৌযানে আঘাত হেনেছে কি-না তা জানায়নি গোষ্ঠীটি। সোমবার (২৯ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই খবর জানিয়েছে। হুথিরা বলছে, প্যালেস্টাইনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা করা হয়েছে। তাদের দাবি, ওই জাহাজটি মার্কিন নৌবাহিনীর সরঞ্জাম পরিবহন করতো। জাহাজটির নাম ল্যুইস বি পুলার। তবে মার্কিন কোনও জাহাজে হুথি হামলার বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি মার্কিন সেনাবাহিনী।
ইউডি/এজেএস

