কুড়িগ্রামে বোরো ধান রোপণে খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

কুড়িগ্রামে বোরো ধান রোপণে খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ০৬:৩০

কুড়িগ্রামের সবকটি উপজেলায় এখন বোরো ধান লাগানোর ধুম পড়ে গেছে। এ জেলায় চলতি মৌসুমে গত এক মাস সময়ব্যাপী কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহে বোরো ধানের চারা লাগাতে অনেকটা দেরি হয়ে যায়। অনেক কৃষক অপেক্ষা করতে থাকেন আবহাওয়া অনুকূলের অপেক্ষায়। গত কয়েকদিন ধরে শৈত্য প্রবাহ কমে রোদ উঠায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। তারা বোরো ধান রোপণ করতে দিনভর কাজ করছেন। সকাল থেকে দিনভর চলছে জমি প্রস্তুতির কাজ।

বর্তমানে বিদ্যুত, সার, কীটনাশক, ডিজেলসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার বোরো চাষে অতিরিক্ত খরচের দুশ্চিন্তায় পড়েছে জেলার কৃষকরা। জমি তৈরি ও বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ করেছেন পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাও। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ার আশা কৃষকদের।

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ২শ ১৫ হেক্টর জমিতে।শুরু থেকে কৃষি বিভাগ সরকারি প্রণোদনাসহ সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে কৃষকদের।

সরেজমিনে জানা যায়, শীত কমতে থাকায় বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। জমিতে বাড়তি সার হিসেবে বিঘা প্রতি ৬-৭ ভ্যান গোবর সারও ছিটিয়ে দিচ্ছেন। এরপর গভীর নলকূপ থেকে জমিতে পানি দিয়ে কেউ কেউ পাওয়ার ট্রিলার ও লাঙল দিয়ে জমি চাষ করছেন। আবার কেউকেউ ট্রাক্টর দিয়ে নিজ জমি চাষ করছেন।

উপজেলার টগরাই হাট এলাকার কৃষক জমির উদ্দিন জানান, আমি ১০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করে থাকি। শীতের কারণে বোরো লাগাতে একটু দেরি হয়ে গেল। তবে ইতোমধ্যেই চারা লাগালেও আর কয়েক দিনের মধ্যে আমার সম্পূর্ণ জমিতে চারা রোপণ শেষ করতে পারব। তবে গত বছরের তুলনায় এবার খরচের হিসাব বেশি গুনতে হচ্ছে। পানি সেচের খরচ, জমি চাষ করা, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকসহ সবকিছুর দাম বেশি। তাই দুশ্চিন্তায় আছি। সদর উপজেলার পাঁচগাছী

বোরো লাগাতে আসা শ্রমিক ফুল মামুদ মিয়া জানান, আমরা কয়েকজন মিলে দলগতভাবে জমি চুক্তি নিয়ে বোরো ধান লাগাচ্ছি। দীর্ঘদিন থেকে বোরো ও আমন ধানের চারা রোপণ করে থাকি। এবার বোরো ধানের চারা রোপণ প্রতি বিঘা (৩৩ শতক) ১৩শ টাকা করে নিচ্ছি। প্রতিদিন ৭ থকে ৮ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করে যাচ্ছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত জানান, অতিরিক্ত শীত ও কুয়াশার কারনে চলতি বছর বোরো চাষ বিলম্বিত হলেও ইতোমধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৮৪ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকরা বোরো লাগানো শেষ করেছেন। তবে এখন আবহাওয়া ভালো থাকায় বোরো লাগানো শেষ করবেন কৃষকরা। আশা করছি চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো চাষ করা হবে এবং ফলনও ভালো পাবেন কৃষকরা।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading