তাদের দস্যু হয়ে ওঠার পেছনে লোমহর্ষক গল্প
সিরাজুল ইসলাম । শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৫:৩০
রাজধানীর রামপুরা থানা পুলিশ একটি দস্যু চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় লুট করা ৭ ভরি স্বর্ণ, ৫০ হাজার টাকা, তিনটি চাপাতি ও একটি হাইড্রোলিক স্টিল কাটার (গ্যাস কাটার)।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো- রমজান, আরমান, বিল্লাল, রাসেল ও সালমান। তারা বিলাসী জীবনের ব্যয় সামলাতে অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে বলে পুলিশকে জানায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মুহাম্মদ মমিনুর রহমান, এএস আই হেজাজুল ইসলাম ও কনস্টেবল বেলায়েত হোসেনের টিম ডাকাতদের গ্রেফতার করে। তাদের সার্বিকভাবে সহায়তা করেছেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাশেদুল ইসলাম।
এসআই মমিনুর রহমান জানান, ডাকাত চক্রকে ধরতে তিনি ঢাকা, কুমিল্লা, শরীয়তপুর, নারায়ণগঞ্জ, টঙ্গী, সাভার, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। ডাকাতরা খালে লাফ দিয়েছিল; কিন্তু পুলিশ তাদের ধরতে সক্ষম হয়।
জানা গেছে, রাজধানীর রামপুরায় নিজের বাসায় ঘুমিয়েছিলেন মমতাজ বেগম, তার স্বামী আব্দুল ওয়াহেদ এবং ভাগ্নে সিয়াম। গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪টার দিকে হঠাৎ শব্দ পেয়ে ঘুম ভাঙে ভাগ্নে সিয়ামের। বাসায় চুরি হচ্ছে বুঝতে পেরে প্রতিরোধ করে।
চক্রের দুজনকে প্রায় কাবু করে ফেলে সে; কিন্তু ততক্ষণে সহযোগী আরও দুজন দস্যু এসে ধারালো চাপাতির মুখে তাকে জিম্মি করে সবার হাত-পা বেঁধে ফেলে।
জীবননাশের হুমকি দিয়ে তারা লুটে নেয় ৩০ ভরি স্বর্ণ; ১ লাখ টাকা ও একটি ল্যাপটপ। পরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে কাটা গ্রিল দিয়েই পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
নিজেদের মুক্ত করতে পেরে ৯৯৯-এ কল দেন ভুক্তভোগীরা। তৎপর হয় পুলিশ। পশ্চিম রামপুরা থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত রমজানকে।
তার দেওয়া তথ্যমতে, কুমিল্লা মুরাদনগর থেকে গ্রেফতার করা হয় মূল পরিকল্পনাকারী আরমানকে। পরে নারায়ণগঞ্জের মিজমিজি থেকে গলিত স্বর্ণসহ গ্রেফতার করা হয় স্বর্ণকার বিল্লাল হোসেনকে।
রাসেলকে আটক করা হয় রংপুর থেকে। সালমানকে গ্রেফতার করা হয় রাজধানীর সাতারকুল থেকে। তাদের কাছ থেকে আনুমানিক ৫ ভরি গলানো স্বর্ণ, এক জোড়া চুড়ি ও দুটি আংটিসহ (৭ ভরি স্বর্ণ); ৫০ হাজার টাকা; দস্যুতায় ব্যবহৃত তিনটি চাপাতি ও একটি হাইড্রোলিক স্টিল কাটার (গ্যাস কাটার) উদ্ধার করা হয়।
খিলগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাশেদুল ইসলাম জানান, স্বর্ণকার বিল্লাল হোসেনসহ চক্রের প্রতিটি সদস্যের রয়েছে নিজস্ব নেটওয়ার্ক। টার্গেট অনুযায়ী তারা সময়ে সময়ে লোক ভাড়া করে নেয়।
ডাকাতি-দস্যুতায় প্রাপ্ত মালামাল নিরাপদে বিক্রি করে দেওয়ার জন্যও তারা ব্যবহার করে এসব লোক।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় বিভিন্ন অপরাধের দায়ে একাধিক মামলা রয়েছে। মূল পরিকল্পনাকারী আরমানের বিরুদ্ধে দুটি অস্ত্র আইনের মামলাসহ সাতটি মামলা রয়েছে।
এর আগেও বহুবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবার জামিনে বের হয়ে এসে পুনরায় একই কাজ শুরু করে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর জেল থেকে জামিনে ছাড়া পায়।
রাসেলের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও দস্যুতা মিলিয়ে তিনটি মামলা রয়েছে। রমজান ও সালমানের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে প্রায় অর্ধযুগ ধরে চোরাই স্বর্ণ বেচাকেনার সাথে যুক্ত স্বর্ণকার বিল্লাল হোসেন।
বহুবার জামিনে বেরিয়ে আসেন। শাস্তিও হয় কয়েকটি মামলায়। তবুও ছাড়তে পারেনি এই পেশা। মূলত তার আশপাশের কয়েক জেলার চোরাই স্বর্ণের শেষ গন্তব্য হয় তার দোকান আলিফ জুয়েলার্স-এ।
এখানে সে স্বর্ণ গলিয়ে পাচারকারীদের কাছে হস্তান্তর করে। বিলাসবহুল জীবন অনুসরণ আর নিজেদের অর্থনৈতিক বেহিসাবি ভাব বজায় রাখতেই তারা এ পথে পা বাড়িয়েছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে।
আসামি সালমান জানান, বিভিন্ন সময়ে জুয়ায় হেরে গিয়ে টাকা পরিশোধের জন্য সে এ পথে পা বাড়িয়েছে।
ইউডি/এআর

