রাঙ্গামাটির ডিসি পার্ক: বাণিজ্যিকভাবে চালুর দিকে হাঁটছে, ক্ষোভ
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ০৪ মার্চ, ২০২৪, আপডেট ১৪:০০
কাপ্তাই হ্রদ আর পাহাড়ে ঘেরা পর্যটন শহর রাঙ্গামাটি। বিশালাকার জলাধারের কাপ্তাই হ্রদ একদিকে রাঙ্গামাটির যেমন অপরূপ সৌন্দর্য বাড়িয়েছে, আবার হ্রদই রাঙ্গামাটিতে দুর্গম করেছে। পার্বত্য শহর রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্পে আমূল পরিবর্তন না হলেও বিগত এক দশকে গড়ে ওঠেছে ছোট-বড় বাণিজ্যিক পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্র। হ্রদ পাহাড়ের শহর রাঙ্গামাটির বাণিজ্যিক আয়োজনের বাহিরে এখনো পর্যন্ত একমাত্র উন্মুক্ত পার্ক রয়েছে শহরের ডিসি বাংলো পার্ক। এখন সেটিও বাণিজ্যিকভাবে চালুর দিকে হাঁটছে প্রশাসন। তবে পার্কটিকে বাণিজ্যিক করার ক্ষেত্রে আপত্তি আছে জেলাবাসীর।
স্থানীয়রা বলছেন, রাঙ্গামাটি জেলা শহরের শেষপ্রান্ত জিরো পয়েন্টে অবস্থিত জেলাপ্রশাসকের (ডিসি) বাংলোর সামনের অবস্থিত পার্কটি পুরো শহরের মানুষের চিত্ত বিনোদন ও কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য উন্মুক্ত স্থান। আশপাশের বাসিন্দারাও পরিবার এবং শিশুদের নিয়ে বিকেলের অবসর সময় কাটাতে পার্কটিতে যান। একে-একে সব উন্মুক্ত স্থানে পার্ক ও বাণিজ্যিকভাবে বিনোদনকেন্দ্র গড়ে ওঠায় শহরের মানুষের যাওয়ার জায়গা নেই। স¤প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, ডিসি বাংলো পার্কের সামনে আগে যেখানে গাড়ি ও মোটরসাইকেল পার্কিং করা হতো সেখানে একটি প্রবেশ বুথ তৈরি করা হয়েছে। প্রবেশ বুথের দেওয়ালে একটা নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা আছে, পার্কের উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় পর্যটকগণের জন্য যাতায়াত সাময়িকবন্ধ।
তবে পার্কের ভেতরেও বেশকিছু পর্যটককে দেখা গেছে। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানালেন, আগামীতে পার্কে ঢুকতে টিকেট লাগবে, সেজন্য তারা আপাতত কিছুদিন টিকিট ফি ছাড়াই ঘুরার সুযোগ পাচ্ছেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম জিসান বখতেয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শিশু কিশোর ও সাধারণ মানুষের চিত্তবিনোদনের জায়গাগুলো সংকুচিত হয়ে আসছে। যেভাবে বাণিজ্যিকভাবে সবকিছু গড়ে তোলা হচ্ছে সেখানে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত কিছু নেই একমাত্র ডিসি বাংলো পার্কটি ছাড়া। কিন্তু স¤প্রতি এটিকে টিকিট ফি দিয়ে প্রবেশের যে আয়োজনের কথা আমরা শুনছি, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পার্ক সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন, অন্যথায় এর নেতিবাচক প্রভাবে শিশু কিশোরদের বেড়ে ওঠার ওপরও প্রভাব ফেলবে। এদিকে জেলাপ্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানায়, ডিসি বাংলো পার্কের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হচ্ছে। টিকিটের মাধ্যমে প্রবেশ মূল্য দিয়ে দর্শনার্থী প্রবেশের বিষয়ে ভাবছে জেলা প্রশাসন। তবে জেলাপ্রশাসকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে জেলা শহরের একমাত্র উন্মুক্ত পার্কটিতে প্রবেশে টিকেট দিয়ে প্রবেশ করা কিংবা উন্মুক্ত রাখার বিষয়টি।
ইউডি/এজেএস

