এমপি আনার হত্যা: শাহীনকে পেতে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি কাজে লাগাতে চায় ইন্ডিয়া
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ৩১ মে, ২০২৪, আপডেট ১৭:২৫
বাংলাদেশের ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার ঘটনার মূলহোতা আকতারুজ্জামান শাহীনকে পেতে তোড়জোড় শুরু করেছে ইন্ডিয়ার সিআইডি। আমেরিকা ও ইন্ডিয়ার মধ্যে অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি কাজে লাগিয়ে শাহীনকে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইন্ডিয়ার পুলিশ প্রশাসনের একটি সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে আনন্দবাজার। আনার ও শাহীন পুরোনো বন্ধু। ব্যবসায়িক লেনদেন থেকে তাদের মধ্যে সংঘাত তৈরি হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন শাহীনকে হাতে পেলে দীর্ঘ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ভিত্তিতে হত্যার সম্ভাব্য কারণ পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। পাশাপাশি এই হত্যা মামলার আরেক অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক সিয়ামকে ধরতে ইন্ডিয়া-নেপাল সীমান্তের নানা এলাকায় ইন্ডিয়ান সিআইডির বিশেষ দল খোঁজখবর নিচ্ছে।
তদন্তকারী দলটি নেপালের বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ রাখছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে তারা কিছুটা চিন্তিত, কারণ এর আগে বারবার নানা মামলায় অভিযুক্তরা নেপাল সীমান্ত পার হয়ে কাঁকরভিটা হয়ে কাঠমান্ডু পৌঁছেছে বা বিহারের রক্সৌল থেকে নেপালের বীরগঞ্জের দিকে ঢুকেছে। এমনকি আনার হত্যার মূল অভিযুক্ত শাহিনও বাংলাদেশ থেকে নেপাল হয়েই আমেরিকায় পালিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। আবার তদন্তকারীদের একটি অংশের দাবি, বাংলাদেশ পুলিশও সিয়ামকে নিজেদের হেফাজতে নিতে চাইছে। দুই পক্ষই চেষ্টা করায় ওই প্রক্রিয়া কিছুটা ধাক্কা খাচ্ছে।
কলকাতা ছাড়ার আগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে নেপালে চিঠি পাঠিয়ে সিয়ামের অবস্থান নিয়ে তাদের জানিয়েছেন। শিগগিরই তার বিষয়ে নেপাল থেকে ভালো খবর আসবে বলে আশা করছেন তিনি। ইন্ডিয়ার সিআইডি সূত্রে খবর, শাহীনের অন্যতম প্রধান সহযোগী সিয়াম কসাই জিহাদকে নিয়ে কয়েক মাস ধরে চিনার পার্কে শাহীনের ফ্ল্যাটেই ছিল। খুনের পরিকল্পনা কার্যকর করার বিভিন্ন ধাপে সিয়ামের কার্যকর ভ‚মিকা ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। এমপি আনার হত্যার অভিযুক্তদের মধ্যে পলাতক শাহীন, সিয়াম, মুস্তাফিজুর, ফয়জুলের নামে ইতোমধ্যে ‘লুকআউট নোটিশ’ জারি করা হয়েছে। তারা বিদেশে পালিয়েছে– এমন শঙ্কা থেকে ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’ জারিরও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইউডি/এজেএস

