সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের তিন যুবক নিহত
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০২৪, আপডেট ১৫:১৫
সৌদি আরবের সড়ক দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের তিন যুবক নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে কাজ শেষে বাসায় যাওয়ার পথে সৌদি আরবের আফিফ শহরের বিশ্বরোডে দুই মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা চাঁদপুরের হাইমচরের কমলাপুর গ্রামের মো. রিফাত ও দক্ষিণ আলগী গ্রামের সাব্বির হোসেন এবং ফরিদগঞ্জের কনট্রেকটার সবুজ হোসেন। তাদের মৃত্যুর খবরে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শুক্রবার (১৪ জুন) সকালে দুর্ঘটনা ও নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাইমচর উপজেলার দক্ষিণ আলগী দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জলিলুর রহমান।
নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, চার বছর আগে সৌদি আরব পাড়ি দেওয়া রিফাত ঈদের পর দেশে আসার কথা ছিল। রিফাত আসবে ঠিকই, তবে জীবিত নয়, মরদেহ। এমন বিলাপে কান্নাকাটি করছে তার বোন আর মা-বাবা।
রিফাতের বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ছেলে দেশে আসার কথা। নতুন আকামা করবে। কত স্বপ্ন ছিল। সব শেষ হয়ে গেল। ছেলের শোক কীভাবে সহ্য করব।
রিফাতের খালাতো ভাই সাব্বির হোসেন। তারা কনট্রাকটর সবুজ হোসেনের সঙ্গে কনস্ট্রাকশনের কাজ করত। সাব্বিরের বাবা ইসমাইল হোসেন বলেন, কোনো টাকা পয়সা চাই না। ছেলেটারে শেষবারের মতো দেখতে চাই। নিজের হাতে ছেলের দাফন করতে চাই।
তার স্কুলে পড়ুয়া বোন কান্নার বিলাপে বলেন, ‘ভাই দেশে আইব। রোজার ঈদ করবে। আমাগো কতো আনন্দ হইব। আমাকে নিয়েও ভাইয়ের কত স্বপ্ন ছিল। এখন আর কিছুই হলো না।’ মাত্র দুই সপ্তাহ আগে স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে সৌদি আরবে নেন কন্ট্রাক্টার সবুজ হোসেন। দীর্ঘ বছর সৌদি প্রবাসী।
নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে বাসায় ফেরার পথে দুর্ঘটনায় কবলিত হন। তার বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১২ নম্বর পশ্চিম চরদুখিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বিশ কাটাখালী গ্রামে। মা-বাবা ও চার ভাই-বোনের সংসার। মৃত্যুর খবরে চলছে শোকের মাতম।
সবুজের বাবা জামাল ফকির সরকারের কাছে সন্তানকে দেশে আনার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ১৮ বছর ছেলে বিদেশ করে। দুই নাতিন আর বউমাকে নিয়ে গেছে। এখন তো আমার পরিবারের আলোর প্রদীপ আর নেই। কে দেখাশোনা করবে এতো বড় পরিবারের।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালমা নাজনীন তিশা বলেন, সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউডি/এআর

