ছয়তলার অনুমোদন নিয়ে নয়তলা ভবন নির্মান, নীরব পৌরসভা কর্তৃপক্ষ!
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর), ২০২৪, আপডেট ২৩:৪৫
বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্র উপজেলা সড়কে দিনাজপুর শহরের কালিতলা এলাকার বাসিন্দা মাদার কেয়ার হাসপাতালের স্বত্তাধীকারী ডাঃ হযরত আলী হেলথ কমপ্লেক্স নামে একটি আলিশান বানিজ্যিক ৯ তলা ভবন নির্মান কাজ প্রায় শেষ করেছেন। এই ভবন নিয়ে চলছে পৌরবাসীর মনে নানা গুঞ্জন।
জানা গেছে, ডাঃ হযরত আলীর শশুর বাড়ী সেতাবগঞ্জ পৌরসভার শহীদ পাড়ায়। সেই সুবাদে ডাঃ হযরত আলী সেতাবগঞ্জের প্রাণ কেন্দ্রে কমপ্লেক্স নামে একটি বানিজ্যিক ৯ তলা আলিশান ভবন নির্মানের কাজ শুরু করেছেন গত বছর। ভবন নির্মান আইন লংঘন করে কোন রকম নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই নির্মান শ্রমিকেরা কাজ করছেন জীবনের ঝুকি নিয়ে। এরই মাঝে এক শ্রমিক ৩য় তলা থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। সেই ভবন আজ দৃশ্যমান ৫ হাজার স্কয়ার ফিটের বিশাল অট্টালিকা। ভবন নির্মানের আগেই সেতাবগঞ্জ পৌরসভা থেকে ভবন নির্মানের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু ডাঃ হযরত আলী ভবন নির্মান কাজ শুরু করার অনেক পরে অনুমোদন প্রাপ্ত হন ৬ তলা ভবন নির্মানের। কোন এক অদৃশ্য ক্ষমতাবলে ডাঃ হযরত আলী ৬ তলা ভবনের স্থানে বেজমেন্টসহ ৯ তলা ভবন নির্মানের কাজ শেষ করেন। এখন চলছে পলেস্তারার কাজ। পৌরসভার বিল্ডিং কোর্ড মতে অনুমোদনের বাহিরে কোনমতেই ভবন বড় করা যাবে না।
স্থানীয়রা জানান, চোখের সামনে ডাঃ হযরত আলী কমপ্লেক্স নামে অবৈধ ভাবে বিশাল অট্টালিকা নির্মান করা হলেও পৌর কর্তৃপক্ষের কোন তদারকি নেই কেন। কোন অজানা কারনে নীরব পৌর কর্তৃপক্ষ? উক্ত হেলথ কমপ্লেক্স এর তত্তাবধায়ক ডাঃ হযরত আলীর পুত্র মোঃ তাজমিরুল ইসলাম বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, হ্যাঁ আমরা অনুমোদনের চেয়ে কিছুটা বড় ভবন নির্মান করছি।
সেতাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ভরত চন্দ্র পাল বলেন, ডাঃ হযরত আলী কে আমরা ৬ তলা ভবন নির্মানের অনুমতি দিয়েছে। এর বাহিরে যদি সে ভবন ৯ তলা করে তবে তা গ্রহন যোগ্য হবেনা। ভবন মালিক কে উপরি অংশ ভেঙ্গে ফেলতে হবে। এই কথায় সিমাবদ্ধ সেতাবগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ। বাস্তবে কোন কার্যক্রম দেখা যায়নি।
দিনাজপুর জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সহকারী পরিচালক মোঃ আমিরুল ইসলাম সরকার বলেন, এটা যেহেতু বানিজ্যিক ভবন তাই আমরা নিরাপত্তার বিষয়টা দেখছি। অনুমোদিত নক্সার বাহিরে ভবন নির্মান হলে তা পৌরকর্তৃপক্ষ দেখবে।
ইউডি/কেএস/লিখন বনিক শুভ

