১ নভেম্বর থেকে কাঁচাবাজারে পলিথিন ব্যবহার বন্ধ

১ নভেম্বর থেকে কাঁচাবাজারে পলিথিন ব্যবহার বন্ধ

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, আপডেট ১৬:১৫

নভেম্বর থেকে পলিথিন উৎপাদনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে পলিথিন ব্যবহার বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে পলিথিন ব্যবহার বন্ধ হবে। পলিথিনের বিকল্প ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষার্থীরা সুপারশপে যাবে।
রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শের-ই বাংলানগরে বন ও পরিরেশ অধিদপ্তরে নিষিদ্ধ পলিথিন/পলিপ্রপাইলিন শপিং ব্যাগের বিকল্প সংক্রান্ত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে পলিথিন ব্যবহার বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে এবং ১ নভেম্বর থেকে কাঁচাবাজারে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা হবে। এগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমরা চাপিয়ে দিচ্ছি না। আপনারা যারা অংশীজন আছেন তাদের সঙ্গে বসেছি, আপনারা যে তারিখের কথা বলেছেন আমরা আপনাদের সঙ্গে একমত হয়েছি। কোনো সমস্যা হলে বলবেন, আমরা সেটা দেখব। এ উদ্যোগ মানুষকে শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, মানুষের জীবন নিরাপদ করার জন্য।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে আমরা বলেছি, আমাদের দেশের পাটের টাকায় পশ্চিম পাকিস্তানে ইসলামাবাদ করা হচ্ছে। ইতিহাসেও আমরা সে কথা পড়েছি। এখন আমাদের এখানকার পাট পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়, কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ কেনে না। আপনারা মাসে ২০ টাকা দিয়ে একটি পরিবেশসম্মত ব্যাগ কিনবেন, এটা আপনার দেশের জন্য, পরিবেশের জন্য, নিজের ও নিজের পরিজনের স্বাস্থ্যের জন্য।

পলিথিন বন্ধ করতে হবে নিজের প্রয়োজনে, নিজের বোধের তাগিদে। যে পলিথিনে আপনি আপনার সন্তানের জন্য মাছ, মাংস কিনছেন, সেই মাছ ও মাংসে যাতে পলিথিনের সঙ্গে থাকা বিষাক্ত কেমিক্যাল না মিশে যায়, সে জন্য আপনি পলিথিন বন্ধ করবেন, বলেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

পলিথিন ব্যবহারে পুলিশি অভিযানে যাব না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করছি। তারা পলিথিন ব্যবহার না করতে উদ্বুদ্ধ করতে সুপারশপে যাবে। তাদের সেভাবে ওরিয়েন্টেশন করানো হবে। তারা সুপারশপে দুদিনও যেতে পারে, পাঁচ দিনও যেতে পারে। এটা আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, ২০০০ সাল থেকে পলিথিনের ব্যাগ উৎপাদন নিষিদ্ধ। কিন্তু তারপরও ২৪ বছর ধরে পলিথিন উৎপাদন করা হচ্ছে। আইন বাস্তবায়নের জন্যই এসব পলিথিন উৎপাদন বন্ধে অভিযান শুরু হয়ে যাবে। আর যারা পলিথিন উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত তারা শুধু পলিথিন উৎপাদন করে বিষয়টি এমন না। তারা সাথে আরও অন্য পণ্য উৎপাদন করে। এজন্য বেআইনি এসব পণ্য উৎপাদন পুনর্বাসনের কোনো যৌক্তিক কারণ দেখি না।

বিইউবিটির আরিফুর রহমান ভূঁইয়া তার প্রবন্ধে বলেন, প্রতিজন প্রতিদিন পাঁচটি প্লাস্টিক ব্যবহার করছি। আর দেশে প্রতি বছর ৯ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন পলিথিন ব্যবহার হচ্ছে, যা আমাদের পরিবেশের সাথে মিশে মাইক্রো প্লাস্টিকের আকার নিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করে। মাটির উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। মানবদেহে ক্ষতি করে থাকে, মানবদেহে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি বাসা বাঁধে।

প্যানেল আলোচনায় এনজিও সংগঠক শাহরিয়ার হোসেন বলেন, পাটের বিকল্প হিসেবে পলিথিনের ব্যবহার এসেছে পলিথিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আর ব্যবসায়ীদের চটকদার ক্যাম্পেইনের পথ ধরে। আমরা তা গ্রহণ করেছি আমাদের বদঅভ্যাসের কারণে। এটা ত্যাগ করতে হবে বিবেচনা প্রসূত ভাবনা থেকে।

ঢাকা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বলেন, পলিথিনের ব্যবহার রোধে পুলিশিংয়ের পরিবর্তে বোঝানোর পথে যেতে হবে। যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পলিথিন ব্যবহার করছেন তারা জানেনই না পলিথিনে ক্ষতি হয়। তাদের বোঝালে পলিথিন ছেড়ে বিকল্প হিসেবে পরিবেশসম্মত সামগ্রী ব্যবহা শুরু করবেন। অতীতে কেমিক্যাল ব্যবহার বন্ধ করার ক্ষেত্রে আমরা সেই সুবিধা পেয়েছি।

ইউডি/কিফায়েত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading