বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া: সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত উভয় দেশ
সাদিত কবির। শনিবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫:৫৫
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে। শুক্রবার (০৪ অক্টোবর) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। তার আগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। ড. ইউনূস বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চাই। দুই দেশই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছি। অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। তাছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনশক্তি রপ্তানি, যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কর্মসংস্থান তৈরি, ভিসা সহজীকরণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (০৪ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান আনোয়ার ইব্রাহিম। তাকে স্বাগত জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সেখানেই দুজনের একান্ত বৈঠক হয়। আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ৫৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রয়েছে।
কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ দূতাবাসের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, ২০০০ সালে প্রথম মালয়েশিয়ায় সরকারি সফরে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক যুগের বেশি সময় পর ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে দ্বিতীয়বার দেশটি সফর করেন তিনি। সর্বশেষ ২০১৩ সালের নভেম্বরে সরকারি সফরে ঢাকায় এসেছিলেন মালয়েশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। প্রায় এক দশক পর মালয়েশিয়ার কোনো প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করলেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফরটি বর্তমান অন্তর্র্বতী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সরকারপ্রধানের প্রথম ঢাকা সফর। ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘বন্ধুকে স্বাগত জানাতে পেরে খুব খুশি’: এর আগে, হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে ড. ইউনিূসের এক সংক্ষিপ্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ এ সময় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ঢাকায় তার পুরোনো বন্ধুকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি ‘খুব খুশি’। বৈঠকে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিপ্লব, ছাত্র ও জনগণের আত্মত্যাগ এবং বিগত সরকার কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যা নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টা মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর নেতাদের সাথে তার দীর্ঘ সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন। তারা একই গাড়িতে চড়ে দ্বিপাক্ষিক ভেন্যুতে গিয়েছিল-তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের প্রকাশে। আলাপচারিতায় মালয়েশিয়ার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সে দেশের নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ যোগাযোগের বিষয়গুলো তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস। গত ১ অক্টোবর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, আনোয়ার ইব্রাহিমের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সম্পর্কে আপনারা জানেন এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে অধ্যাপক ইউনূসের খুবই কাছের মানুষ।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে: ড. ইউনূস বলেন, দুই দেশই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছি। চতুর্থ ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনশক্তি রপ্তানি, যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মসংস্থান ও ভিসা সহজীকরণ নিয়েও কথা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, প্রতিদিন চারশ থেকে পাঁচশ রোহিঙ্গা প্রবেশ করছে, এটা উদ্বেগের বিষয়। তবে এটির সমাধান আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের হাতে। এ সংকটে কেবল বাংলাদেশই নয়, মালয়েশিয়াও ভুক্তভোগী। এটি নিরসনে একসঙ্গে কাজ করছি। বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটকে এতে সম্পৃক্ত করার কথাও জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু শুধু বাংলাদেশের একার সমস্যা না। এটা এখন বৈশ্বিক সমস্যা। নতুন যেসব শিশু জš§ নিচ্ছে সে সংখ্যাও অনেক। তাদের ভবিষ্যৎ কী? তারপরও নতুন করে আরও রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এ বিষয়টি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছি। তিনিও গুরুত্ব বুঝেছেন। সমস্যার সমাধান আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের হাতে। আসিয়ান জোটে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে মালয়েশিয়ার সক্রিয় সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইউডি/এজেএস

