প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ: তৃতীয় দফা বৈঠক যত আলোচনা
আসাদ এফ রহমান, রবিবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৬:০৫
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর তৃতীয় দফা সংলাপ শুরু হয়েছে শনিবার (০৫ অক্টোবর)। এদিন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণতন্ত্র মঞ্চ, বাম গণতান্ত্রিক জোট, ইসলামী আন্দোলনসহ একাধিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। সংলাপের মূল আলোচ্য বিষয়ই ছিলো সংস্কার ও নির্বাচন।অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর তৃতীয় দফা সংলাপ এটি। সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট সংলাপ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে মতবিনিময় করেন ইউনূস।
বর্তমানে ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচন কবে হবে। অনেক রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে সেই দাবি জানাচ্ছে। আবার অনেক রাজনৈতিক দল বলছে, আগে এই সরকারকে সংস্কারে মনোযোগী হতে হবে, সংস্কার শেষ হলেই নির্বাচন নিয়ে ভাবা যাবে। যদিও ড. ইউনূস একাধিকবারই তার বক্তব্যে সংস্কার ইস্যুতে গুরুত্ব দিয়েছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি জনগণকে ধৈর্য ধরার কথা বলেন। পাশাপাশি নির্বাচনের জন্য তার প্রত্যাশিত সময়সীমা তুলে ধরে তিনি বলেন, সংস্কারের মধ্য দিয়ে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ‘গণতন্ত্রে উত্তরণ’ ঘটা উচিত। তবে গত ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভার সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে যে ছয়টি কমিশন গঠন করা হয়েছে, তাদের সুপারিশ নিয়ে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। সংস্কারের বিষয়ে ঐক্যমতে উপনীত হওয়া এবং ভোটার তালিকা তৈরি হলে নির্বাচনের তারিখ বলা হবে।প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংলাপেও নির্বাচন প্রশ্নে দুই যুগের জোটসঙ্গী বিএনপি ও জামায়াতের ‘দুই ধরনের অবস্থান’ ফুটে উঠল।
বিএনপি দ্রুত নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের রোডম্যাপ দাবি করলেও জামায়াত বলেছে, ‘নির্বাচনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার’।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা একটা রোড ম্যাপ দিতে বলেছি। নির্বাচন কমিশন কবে নির্বাচন করবে সে ব্যাপারে একটা রোড ম্যাপ দিতে বলেছি। জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেন, এই সরকার দেশ শাসনের জন্য আসেনি, দেশ শাসনের সুষ্ঠু পথ বিনির্মাণের জন্য তারা এসেছে। কী কী মৌলিক বিষয়ে তারা সংস্কার করবেন আমরা সেই বিষয়ে কথা বলেছি।
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলে গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেন। গত ১ অক্টোবর জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠনের কথা জানান। পরে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনে বদিউল আলম মজুমদার, পুলিশ সংস্কার কমিশনে সফর রাজ হোসেন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনে বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান, দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের ইফতেখারুজ্জামান, জনপ্রশাসনে আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনে অধ্যাপক আলী রীয়াজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এই ছয় কমিশনের সদস্যদের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
ইউডি/এজেএস

