প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ-প্রধান আলোচ্য : সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ-প্রধান আলোচ্য : সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৬:০০

তৃতীয় দফা বৈঠক যত আলোচনা

আসাদ এফ রহমান: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর তৃতীয় দফা সংলাপ শুরু হয়েছে শনিবার (০৫ অক্টোবর)। এদিন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণতন্ত্র মঞ্চ, বাম গণতান্ত্রিক জোট, ইসলামী আন্দোলনসহ একাধিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। সংলাপের মূল আলোচ্য বিষয়ই ছিলো সংস্কার ও নির্বাচন।অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর তৃতীয় দফা সংলাপ এটি। সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট সংলাপ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে মতবিনিময় করেন ইউনূস।

বর্তমানে ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচন কবে হবে। অনেক রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে সেই দাবি জানাচ্ছে। আবার অনেক রাজনৈতিক দল বলছে, আগে এই সরকারকে সংস্কারে মনোযোগী হতে হবে, সংস্কার শেষ হলেই নির্বাচন নিয়ে ভাবা যাবে। যদিও ড. ইউনূস একাধিকবারই তার বক্তব্যে সংস্কার ইস্যুতে গুরুত্ব দিয়েছেন। স¤প্রতি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি জনগণকে ধৈর্য ধরার কথা বলেন। পাশাপাশি নির্বাচনের জন্য তার প্রত্যাশিত সময়সীমা তুলে ধরে তিনি বলেন, সংস্কারের মধ্য দিয়ে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ‘গণতন্ত্রে উত্তরণ’ ঘটা উচিত। তবে গত ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভার সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে যে ছয়টি কমিশন গঠন করা হয়েছে, তাদের সুপারিশ নিয়ে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। সংস্কারের বিষয়ে ঐক্যমতে উপনীত হওয়া এবং ভোটার তালিকা তৈরি হলে নির্বাচনের তারিখ বলা হবে।প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংলাপেও নির্বাচন প্রশ্নে দুই যুগের জোটসঙ্গী বিএনপি ও জামায়াতের ‘দুই ধরনের অবস্থান’ ফুটে উঠল।
বিএনপি দ্রুত নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের রোডম্যাপ দাবি করলেও জামায়াত বলেছে, ‘নির্বাচনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার’।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা একটা রোড ম্যাপ দিতে বলেছি। নির্বাচন কমিশন কবে নির্বাচন করবে সে ব্যাপারে একটা রোড ম্যাপ দিতে বলেছি। জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেন, এই সরকার দেশ শাসনের জন্য আসেনি, দেশ শাসনের সুষ্ঠু পথ বিনির্মাণের জন্য তারা এসেছে। কী কী মৌলিক বিষয়ে তারা সংস্কার করবেন আমরা সেই বিষয়ে কথা বলেছি।

প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করলে গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেন। গত ১ অক্টোবর জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠনের কথা জানান। পরে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনে বদিউল আলম মজুমদার, পুলিশ সংস্কার কমিশনে সফর রাজ হোসেন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনে বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান, দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের ইফতেখারুজ্জামান, জনপ্রশাসনে আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনে অধ্যাপক আলী রীয়াজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এই ছয় কমিশনের সদস্যদের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

সংলাপের থেকে বের হয়ে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

অবিলম্বে ইসি গঠনসহ নির্বাচনের রোডম্যাপ চায় বিএনপি

পারভেজ আহমেদ: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংলাপে অবিলম্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করে ‘নির্বাচনের রোডম্যাপ’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সমাবেশে তোলা দাবিটি এবার সরাসরি সরকার প্রধানের কাছেই তুলে ধরল তারা। শনিবার বিকালে সংলাপের থেকে বের হয়ে এসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন স্থগিত করে প্রধান রাজনৈতিক দলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। আমরা একটা রোড ম্যাপ দিতে বলেছি। নির্বাচন কমিশন কবে নির্বাচন করবে সে ব্যাপারে একটা রোড ম্যাপ দিতে বলেছি। বেলা আড়াইটা থেকে এক ঘণ্টা ফখরুলের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল হেয়ার রোডে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করেন। সংলাপে ছয় সদস্যের বিএনপির প্রতিনিধি দলের ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও সালাহউদ্দিন আহমেদ। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিতর্কিত কোনো ব্যক্তি যাতে নির্বাচন সংস্কার কমিশনে না যায়, সে কথা আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি। আমরা ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের ‘ভুয়া ভোটে’ নির্বাচিত সকল ইউনিয়ন পরিষদ বাতিল করতে বলেছি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে যেসব প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং কমিশনারসহ ছিল, তাদেরকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ নির্বাচন করার অভিযোগে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার কথা বলেছি। ড. ইউনূসের সঙ্গে সংলাপ শেষে বিএনপি মহাসচিব বলেন, উনি (প্রধান উপদেষ্টা) আমাদেরকে বলেছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠান উনাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার। বিএনপির দাবির বিষয়ে তিনি কী বলেছেন জানতে চাইলে জবাব আসে, বিষয়গুলো অত্যন্ত সহযোগিতার সঙ্গে তারা দেখছেন। তারা মনে করেন আমাদের দাবিগুলো জনগণের দাবি, আমাদের দাবিগুলো তাদেরও দাবি। এদিকে, তত্ত¡াবধায়ক সরকার অসাংবিধানিক উল্লেখ করে রায় দেওয়ার কারণে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ অভিযোগ আনার দাবিও জানিয়েছে বিএনপি। ফখরুলের অভিযোগ, বিচারপতি খায়রুলই ‘সংবিধান ধ্বংস ও তত্ত¡াবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের ‘মূল হোতা’।

সাবেক মন্ত্রীরা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে কীভাবে: সাবেক মন্ত্রীরা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, কীভাবে পালিয়ে যাচ্ছে, কার সহযোগিতায় পালাচ্ছে, এই বিষয়গুলো দেখার জন্য বলেছি। আজকে ‘পতিত স্বৈরাচারী’ শেখ হাসিনা ভারতে আছেন। ভারতে থেকে তাকে কেন্দ্র করে, তার মাধ্যমে যে সমস্ত ক্যাম্পেইন চলছে, যে সমস্ত ‘অপপ্রচার’ চলছে, সেই বিষয়গুলো নিয়ে ভারতের সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য এবং তাকে (শেখ হাসিনা) ওই অবস্থা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছি; তারা যেন ভারত সরকারের সাথে আলোচনা করে। যাদেরকে দুর্নীতি ও হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপি নেতা বলেন, “এটা খুব উদ্বেগজনক। এই বিষয়টা আমরা দেখার জন্য বলেছি। ২০০৭ সালে থেকে শেখ হাসিনার শাসনামলে সকল মিথ্যা, ‘গায়েবি’ মামলা প্রত্যাহারের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা ও প্রত্যাহারের ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলেছি। পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে কারা আছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ‘গুম-খুনের’ সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিও জানান বিএনপি নেতা। জাতিসংঘের একটি দল এসেছে বাংলাদেশে। সেই দলকে যারা বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে জড়িত আছেন তারা জাতিসংঘের টিমকে সেইভাবে সহযোগিতা করছে না। বিষয় আমরা বলেছি।

সংস্কার সফল হলে নির্বাচন সফল হবে

সংলাপ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

রিন্টু হাসান: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গত তিন জাতীয় নির্বাচনে জাতি যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই সরকারের কাজ হচ্ছে একটা গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা। এ জন্য কিছু মৌলিক বিষয়ে তাদের সংস্কার করতেই হবে।
শনিবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংলাপে নির্বাচন, সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিরা। সংলাপ শেষে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াত আমির। সংস্কারকে এক নম্বরে গুরুত্ব দিচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কারের টাইমলাইন কী হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা দুটি বিষয় দেশবাসীর কাছে চেয়েছি এবং সরকারের কাছে জানিয়েছি। একটা রোডম্যাপ হবে সংস্কারের, আরেকটা নির্বাচনের। সংস্কার সফল হলে নির্বাচন সফল হবে। দুটি বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। পরপর তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জাতি বঞ্চিত হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, এই সরকার দেশ শাসনের জন্য আসেনি, তারা দেশ শাসনের সুষ্ঠু পথ বিনির্মাণের জন্য এসেছে। তাদের কাজ হচ্ছে, গত তিন জাতীয় নির্বাচনে জাতি যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, একটা গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা। এ জন্য কিছু মৌলিক বিষয়ে তাদের সংস্কার করতেই হবে। কী কী মৌলিক বিষয়ে তারা সংস্কার করবে, আমরা সেই বিষয়ে কথা বলেছি।

প্রস্তাবগুলো উন্মুক্ত হবে অক্টোবর ৯ : গণমাধ্যমকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আগামী ৯ অক্টোবর আপনাদের মাধ্যমে আমাদের প্রস্তাবগুলো জাতির সামনে উন্মুক্ত করবো। আমরা আমাদের চিন্তা জাতির সামনে তুলে ধরবো, কী কী সংস্কার এই মুহূর্তে প্রয়োজন, কী কী সংস্কার পরবর্তী পর্যায়ে আমাদের লাগবে। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপ করেন। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের নেত্বত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলটির নায়েবে আমির আবু তাহের মুহাম্মদ আবদুল্লাহ, এম এম শামসুল ইসলাম, মজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। দেশের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ এবং সরকার একসঙ্গে কীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে পারে। সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারে, সেই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের কথাবার্তা হয়েছে। আমরা আশা করছি, বর্তমান যে সরকার আছে, তারা কোনও ধরনের পক্ষ-বিপক্ষের মানসিকতা না নিয়ে, নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে তারা দেশকে একটা ভালো পর্যায়ে নিয়ে নির্বাচন দিতে সক্ষম হবে।

ফের ফ্যাসিবাদ যেন ফিরে না আসে তাই সংস্কার প্রয়োজন

সাদিত কবির: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এনগেজমেন্ট আরও বেশি এবং নিয়মিত করার কথা বলেছেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। তারা বলেছেন, দরকার হলে তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের একটা কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে। এটা সাপ্তাহিক, পাক্ষিক হতে পারে। এ প্রস্তাবে ওনারা একমত হয়েছেন। সংলাপ শেষে গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সংস্কারের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন, আমরা স্পষ্ট করে আমাদের মতামত দিয়েছি। পার্টিকুলারলি বলেছিলাম, আমরা একটা সরকার বদলানোর আন্দোলন করছি না, নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছি না। সামগ্রিকভাবে আন্দোলন করছি যাতে নির্বাচন ব্যবস্থা ও সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়ায় একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র করা যায়। আবার যাতে ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে। সে কারণে সংস্কার প্রয়োজন। এজন্য প্রথম থেকে সংস্কারের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বলে আসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কারের জন্য প্রয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতা করব আমরা। আমরা প্রশাসনের কিছু দুর্বলতা দেখছি, ব্যর্থতা দেখছি, সীমাবদ্ধতা দেখছি। সিভিল পুলিশসহ প্রশাসনে এমন কিছু দেখছি যা উদ্বেগ প্রকাশ করার মতো। এই বিষয়গুলো লক্ষ্য করেছেন বলে জানিয়েছেন।

সংস্কারের শর্তই হচ্ছে সবাই সেটা গ্রহণ করবে : গণতন্ত্র মঞ্চের এ নেতা বলেন, সংস্কারের একটা শর্তই হচ্ছে সবাই সেটা গ্রহণ করবে। ন্যূনতম ঐক্যের প্রচেষ্টা তাদের করতে হবে। এ ব্যাপারে আমরাসহ সব রাজনৈতিক দল সরকারকে সহযোগিতা করব। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা বলেছি যতদূর পর্যন্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সংস্কার করতে পারব, ততদূর পর্যন্ত আমরা সংস্কার করব। বাকি যেসব সংস্কার দরকার তা পরের নির্বাচিত সরকার এসে করবে।
প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সম্মান সফল নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের যদি মনে হয় আপনাদের লিপ্সা আছে, যদি মনে হয় অতীতের মতো ন্যায়-অন্যায় বাছবেন না, অর্থের ধান্দা করবেন, দুর্নীতি বেড়ে যায় তা আপনাদের ওপর বর্তাবে। আপনারা বলবেন যে জানিনি, বুঝিনি সেটা হবে না। প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। আমরা সমাজের একেবারে নি¤œস্তর পর্যন্ত কাজ করি। আমরা মনে করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই পুরো সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। এর আগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপ করে গণতন্ত্র মঞ্চের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল। তাদের নেতৃত্ব দেন মঞ্চের সমন্বয়ক নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। প্রতিনিধি দলের আরও ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা আকবর খান, আবুল হাসান রুবেল, আবু ইউসুফ সেলিম, ইমরান ইমন।

বৈঠক শেষে কথা বলেন গণঅধিকার পরিষদের নেতারা

গণঅধিকার পরিষদ দিলো ১২ প্রস্তাব: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতারা। এতে ১২টি প্রস্তাব দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। বৈঠকে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার কাছে দেওয়া ১২টি প্রস্তাব গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ। ১২ দফার মধ্যে রয়েছে,অন্তর্র্বতী সরকারের কাজের পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ প্রকাশ করা; গণহত্যায় জড়িত পতিত স্বৈরাচার ও তার দোসরদের বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা; সরকারের কাজের সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে আলোচনার মাধ্যমে দক্ষ কর্মঠ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের পরিসর বাড়ানো; শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের আমলে দুর্নীতি, লুটপাট করে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া মাফিয়া, অর্থপাচারকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রভৃতি।

সংলাপ শেষে কথা বলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক

দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ চায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেছেন, দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি নিয়ে কথা বলেছি। বাজার মূল্য যাতে নিয়ন্ত্রণে আসে সেই বিষয়ে কথা বলেছি। সংলাপ শেষে শনিবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে এ কথা বলেন তিনি।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারে অনেকগুলো কমিশন গঠন হয়েছে। প্রতিটি কমিশন আলাদা আলাদা করে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবে, আলোচনার মাধ্যমে তারা তাদের সংস্কার প্রস্তাবনা তৈরি করবেন। সেই প্রস্তাবনা তৈরি হলে আবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। তারপরেই সবার মতামত নিয়ে সংস্কার প্রস্তাবনা কাজ শুরু করবে। তিনি বলেন, আমরা বলেছি যে শিক্ষা কমিশন বাতিল করা হয়েছে, এখন আরো একটি শিক্ষা কমিশন গত ৩০ সেপ্টেম্বর গঠন করা হয়েছে প্রাথমিক ও উপআনুষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয়ে। সেক্ষেত্রে কিছু আপত্তির জায়গা রয়েছে। এই কমিশনে এমন ব্যক্তি রয়েছে যারা বিগত রেজিম সরকারের হয়ে কাজ করেছে। মামুনুল হক বলেন, এখানে আমাদের প্রধান উপদেষ্টার বিপক্ষে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন ব্যক্তিও রয়েছেন। আমরা এই বিষয়গুলো উপদেষ্টাকে আরও সতর্ক থাকার কথা বলেছি। পতিত স্বৈরাচারের দোসররা যাতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করতে না পারে সেটা বলেছি।

সংলাপ শেষে কথা বলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স

এই সরকার যেন জনগণকে উদ্বিগ্ন না করে: বাম জোট

মহোসু: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংলাপে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা বলেছেন, আগের সরকারের মতো এই সরকারও যেন জনগণকে উদ্বিগ্ন করে না রাখে। জিনিসপত্রের দাম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এখনও রোধ হয়নি। এগুলোকে জরুরি কর্তব্য হিসেবে নিতে হবে, কারণ জনগণ যদি আশাহত হয় তাহলে কোনও ভালো কাজ বা সংস্কারের কথা শুনবে না। সংলাপ শেষে শনিবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।

তিনি বলেন, আমরা এই অন্তর্র্বতীকালীন সরকারকে বলেছি, মনে রাখা দরকার, আগে যে সরকার ছিল তাদের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বিদায় করা হয়েছে, এই জন্য যে তারা জনগণকে উদ্বিগ্ন করে রেখেছিল। আমরা বলেছি, এই সরকার যেন জনগণকে এভাবে উদ্বিগ্ন না করে। রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সব সংস্কার করার দায়িত্ব এই সরকারের না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই। তবে এর মধ্যে প্রধান হবে নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার। আজ থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করে নির্বাচন কবে হবে সেই রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। অন্যান্য সংস্কারের যে কাজগুলো আছে, সেই প্রস্তাব তারা করে যাবেন এবং পরবর্তী নির্বাচিত সরকার সেই কাজগুলো করবে। আমরা বলেছি এই সরকারের এমন কোনও কাজ করা ঠিক হবে না, যা মানুষের কাছে তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা মানে হচ্ছে আমরা যেই গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করেছি, সে গণঅভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। সেই জন্য অনেক কাজ করা যাবে না।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপ করেন ৬ সদস্যের বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রতিনিধিদল। এতে ছিলেন বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি শাহ্ আলম, সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান।

বৈঠক শেষে কথা বলেনইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম

আরও ৯ কমিশন গঠনের প্রস্তাব ইসলামী আন্দোলনের: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, স্বৈরাচার যারা নাকি খুনি, ফ্যাসিস্ট, তারা যেন নির্বাচন করার সুযোগ না পায়, সেটা আমরা উপদেষ্টাদের বলেছি। শনিবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আমরা ৬টি সংস্কার কমিশনের সঙ্গে আরও ৯টি কমিশন গঠনের গঠনের প্রস্তাব করেছি। এগুলো হলো-আইন বিষয়ক সংস্কার কমিশন, নাগরিক সেবা বিষয়ক সংস্কার কমিশন, পররাষ্ট্র বিষয়ক সংস্কার কমিশন, শিক্ষা বিষয়ক সংস্কার কমিশন, বাকস্বাধীনতা বিষয়ক সংস্কার কমিশন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্কার কমিশন, শ্রমজীবী বিষয়ক সংস্কার কমিশন, সংখ্যালঘু ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক সংস্কার কমিশন এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক সংস্কার কমিশন। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ০৬ অক্টোবর ২০২৪ । প্রথম পৃষ্ঠা

চরমোনাই পীর বলেন, আজ আমরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সঙ্গে আমরা নির্বাচন সংস্কারের কথা বলেছি। তাদের সঙ্গে দেশের কল্যাণের ব্যাপারে কথা বলেছি। নির্বাচন সংস্কারের ব্যাপারে কথা বলেছি। নির্বাচন সংস্কারের ব্যাপারে বলেছি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৩ বছরে জাতীয় যে নির্বাচনগুলো হয়েছে সে নির্বাচনগুলোর বেশির ভাগই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল না। সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, আমরা পিআর সিস্টেম অর্থাৎ প্রতিটা ভোটারের ভোট মূল্যায়ন হবে। জাতীয় সরকার যেটা আমরা বলি, সমস্ত প্রতিনিধিদের দলীয় মার্কায় বাংলাদেশের জনগণ ভোট দেবে। ভোটের আনুপাতিক হারে প্রতিনিধি সংসদে দায়িত্ব পালন করবে। এ পদ্ধতির কথা আমরা বলেছি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, ৫ আগস্ট স্বাধীন হয়েছে বহু রক্ত বহু জানের বিনিময়ে। আপনার যে ম্যান্ডেট বা জনগণের সমর্থন নিয়ে দেশ পরিচালনা করছেন, আপনাদের তো কোনো দুর্বলতা নেই, তাহলে কেন খুনি এবং দেশের টাকা পাচারকারীরা দেশ থেকে পালাল, সেটা আমার বোধগম্য না। এটা জাতি জানতে চায়। জাতি এটা মানতে চায় না। আপনাদের দুর্বলতা প্রকাশ পায়। আপনাদের উচিত হবে খুনি, টাকা পাচারকারীদের আটকে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা।

ইউডি/এজেএস

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading