ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলা: ইরানের তেল বা পারমাণবিক স্থাপনা টার্গেটে আমেরিকার বিরোধিতা কেন?

ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলা: ইরানের তেল বা পারমাণবিক স্থাপনা টার্গেটে আমেরিকার বিরোধিতা কেন?

রিন্টু হাসান। বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৬:০০

সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলে ইরানের হামলার জবাবে দেশটির তেল ও পারমাণবিক স্থাপনায় তেল আবিবের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে খোলাখুলি বিরোধিতা করেন। পরে গত সপ্তাহে এক ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইরানে ইসরায়েলি হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে আলাপ করেন বলে ওই সূত্র জানায়। সূত্র বলেছে, ফোনালাপে নেতানিয়াহু বাইডেনকে ইরানের শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনার কথা জানান। এ বিষয়ে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইরানের তেল ও পারমাণবিক লক্ষ্যবস্তুতে নিজের হামলার পরিকল্পনা না থাকার ব্যাপারে পুনরায় আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু কেন আমেরিকার এই বিরোধীতা তা নিয়ে চলছে আলোচনা। আমেরিকার কর্মকর্তারা বলছেন, সামনেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এ অবস্থায় ইরানের তেল স্থাপনায় হামলা হলে জ্বালানির দাম বেড়ে যেতে পারে। এটি মার্কিন ভোটাররা ভালোভাবে নেবেন না।

আবার, দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পুরোদমে যুদ্ধ বেধে যেতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, ইরানি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল দেশটিতে পরিমিত জবাব দেবে। তাদের বিশ্বাস, ইরানের সঙ্গে সর্বাত্মক লড়াইয়ে জড়াতে চাইবে না ইসরায়েল। হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের একজন মুখপাত্র বলেন, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার বিষয়ে আমাদের সমর্থন ইস্পাতকঠিন। ব্যক্তিগত ক‚টনৈতিক আলাপের বিষয়ে আমরা আলোচনা করব না। ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে জানতে চাইলে আমরা আপনাকে তাদের সঙ্গেই কথা বলতে বলব। ইরানের সা¤প্রতিক ওই হামলায় ইসরায়েলের জবাব দেওয়ার অধিকারের পক্ষে নিজেদের অবস্থান এখনো ব্যক্ত করে চলেছেন বাইডেন ও অন্য শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলেছে, তারা আমেরিকার মতামত বিবেচনা করবে। তবে গত ১ অক্টোবর ইরান যে হামলা চালিয়েছে, সেটির জবাব কী হবে, তা নিজ জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই চূড়ান্ত করবে ইসরায়েল। আর কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরানের হামলায় ইসরায়েল কী জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, সে বিষয়ে দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন তারা। এর আগে বাইডেন ও নেতানিয়াহুর মধ্যে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ওই ফোনালাপকে ‘ফলপ্রসূ’ ও ‘সরাসরি’ বলে বর্ণনা করে হোয়াইট হাউস। প্রায় দুই মাসের মধ্যে এটি ছিল দুই নেতার প্রথম ফোনালাপ। এদিকে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ইসরাইলকে ইরানের তেল স্থাপনাগুলোতে আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখতে ওয়াশিংটনের কাছে তদবির করছে। কারণ যদি সংঘর্ষ বাড়তে থাকে তাহলে তাদের নিজেদের তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা তাদের।

ইউডি/এজেএস

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading