ইরানে সম্ভাব্য হামলা: ইসরায়েলের প্রতিশোধ পরিকল্পনায় ‘উত্তেজনা’

ইরানে সম্ভাব্য হামলা: ইসরায়েলের প্রতিশোধ পরিকল্পনায় ‘উত্তেজনা’

আসাদ এফ রহমান । বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫:৫৮

গত ১ অক্টোবর ইসরায়েলে প্রায় ২০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় ইরান। সেই হামলায় ইসরায়েল কোনো ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার না করলেও ইরান দাবি করেছে, তাদের ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। তেহরান সে সময় এ-ও দাবি করেছিল যে, গুপ্তহত্যার শিকার হামাসের প্রয়াত প্রধান ইসমাইল হানিয়া, ইসরায়েলি হামলায় নিহত হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এর পর থেকেই ইরানে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে ইসরায়েল। ইরানের এই হামলার পর থেকে তেল আবিব কী জবাব দিতে পারে, তা নিয়ে অনেক জল্পনাকল্পনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, ইসরায়েল ইরানের তেল স্থাপনায় আঘাত হানতে পারে; আবার কেউ কেউ বলছেন, তারা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে। কিন্তু, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এই দুটি পরিকল্পনারই বিরোধিতা করছেন বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে। তবে বাইডেন প্রশাসন ইসরায়েলকে একটি টার্মিনাল হাই অলটিচ্যুড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) মিসাইল প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দেওয়ার এবং ইসরায়েলে মার্কিন সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। সম্ভবত ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবিলায় আমেরিকা এসবের অনুমোদন দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

এদিকে বাইডেনের রাজনৈতিক প্রতিদ্ব›দ্বী রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে ‘প্রথমেই পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত করতে’ উসকানি দিয়েছেন। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও এই পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু ১৯৮১ সালে ইরাকের একটি পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েলের চালানো আরেকটি হামলার প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষকরা বলেন, তার থেকেও ভয়াবহ হবে যদি ইরানেও একই ভাবে হামলা চালানো হয়। ইসরায়েল ১৯৮১ সালে ফ্রান্স নির্মিত ইরাকি ওসিরাক পারমাণবিক চুল্লিটি ধ্বংস করেছিল। ওই হামলা মূলত গোপনে ইরাককে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর বিষয়ে প্রেরণা জুগিয়েছিল এবং ইরাকের তৎকালীন নেতা সাদ্দাম হোসেনকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে উৎসাহিত করেছিল।

এদিকে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে পরিচালিত একটি জরিপ দেখাচ্ছে, ইরানের একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতি জনসমর্থন খুবই বেশি। এর বাইরে এখন জনমনে একটি বৃহত্তর ঐকমত্য রয়েছে যে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৬৯ শতাংশ বলেছেন, তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরির উদ্যোগ সমর্থন করবেন।এটি স্পষ্ট, ইসরায়েলের এখন পর্যন্ত যেসব কাজকারবার করে এসেছে, তা শুধু ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় কোনো ধরনের হামলা হলে তা ইরানের সেই সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে। কিন্তু ইসরালের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা ও লেবাননে যা করছেন এবং ইরানে যা করতে যাচ্ছেন, তা ইসরায়েলকে বিজয় এনে দেবে না। তার কৌশল এই দেশগুলোয় এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। এই ক্ষোভ ইরান ও তার মিত্রদের আরও দ্রæত পুনর্গঠনে সাহায্য করবে। এটি নেতানিয়াহুর জন্য জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।

ইউডি/এজেএস

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading