শিল্প-সংস্কৃতি চর্চায় বাধা, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
আশিকুর রহমান। রবিবার, ১০ নভেম্বর , ২০২৪, আপডেট ১৫:২৫
রাজধানীতে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় নাটক বন্ধ করতে আসা ব্যক্তি এবং গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সমাবেশে হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে। গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদ বলেছেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে প্রতিবাদ কর্মসূচি দেওয়া হবে। শনিবার (০৯ নভেম্বর) শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত করে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সারাদেশের নাট্যকর্মীদের নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন কামাল বায়েজীদ।
প্রসঙ্গত, গত ২ নভেম্বর দেশ নাটক প্রযোজিত ‘নিত্যপুরাণ’ নাটকের প্রদর্শনী মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই দিন টিকেট বিক্রি শুরু হয় বিকাল থেকে। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে একদল লোক শিল্পকলার গেইটের সামনে দেশ নাটকের সদস্য এহসানুল আজিজ বাবুকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ গিয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করলে যথারীতি নাটকের প্রদর্শনী শুরু হয়। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা ফের সংগঠিত হয়ে নাট্যশালার গেইটের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে মহাপরিচালক ‘দেশ নাটকের’ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রদর্শনী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত দেন।
পরদিন এক ব্রিফিংয়ে জামিল আহমেদ বলেন, দর্শকের ‘নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে’ নাটকের প্রদর্শনী মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি দেখে তার আশঙ্কা হয়েছিল, শিল্পকলা একাডেমিও ‘আক্রান্ত হতে পারে’। এই ঘটনায় উদীচী, দেশ নাটক বিবৃতি দিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিক্ষুব্ধ থিয়েটারকর্মীরা। নাটক বন্ধের ঘটনায় গত শুক্রবার (০৮ নভেম্বর) প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করে গ্রæপ থিয়েটার ফেডারেশন। সমাবেশ চলাকালীন কয়েকজন লোক এসে পেছন থেকে ‘ডিম ছুঁড়ে’ মারে এবং নাট্যকর্মীদের ধাওয়া খেয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে নাট্যকর্মীরা নাট্যশালার সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে ‘নাটক মোদের অধিকার/রুখবে নাটক সাধ্য কার’। এর আধা ঘণ্টা পর ৪০/৫০ জন বিক্ষোভকারী সংগঠিত হয়ে আবারও এসে নাট্যশালার সামনে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সেনাবাহিনীসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী উভয়পক্ষের মাঝে ব্যারিকেড তৈরি করেন। নাট্যকর্মীরা অবস্থান নেন নাট্যশালার মেইন গেইটের সামনে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নেন দুর্নীতি দমন কমিশনের গেইটের সামনে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি ¯েøাগানে উত্তপ্ত হয়ে উঠে নাট্যশালার সামনের চত্বর। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় বিক্ষোভকারীরা নাট্যশালার সামনে থেকে চলে যান।
এমন প্রেক্ষাপটে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে থিয়েটার বা নাট্যচর্চা করতে চায় মঞ্চশিল্পীরা। পাশাপাশি যারা বিক্ষোভ করে হুমকি দিয়ে নিত্যপুরাণ নাটকের প্রদর্শনী বন্ধ করেছে এবং শুক্রবার নাট্যকর্মীদের প্রতিবাদ সমাবেশে হামলা করেছে তাদের ভিডিও ফুটেজ দেখে বিচারের আওতায় আনতে হবে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিল্পকলা একাডেমিসহ অন্তর্বর্তী সরকারকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শনিবার শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এদিকে সংবাদ সম্মেলন চলাকালে শিল্পকলা একাডেমির গেটের সামনে বিক্ষোভের চেষ্টা করলে মহিউদ্দীন হৃদয় (৩৮) ও রাসেল (৪২) নামে দুই বিক্ষোভকারীকে আটক করে নিয়ে যায় রমনা থানা পুলিশ।
ইউডি/এজেএস

