আমাদের পরিচয় স্পষ্ট-কিন্তু হামলাকারী কারা, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের প্রশ্ন
সাদিত কবির । রবিবার, ১০ নভেম্বর , ২০২৪, আপডেট ১৫:২৭
গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদ বলেছেন, আমরা তো নাট্যকর্মী, আমাদের পরিচয় স্পষ্ট। তবে যারা নাটক বন্ধ করতে চায়, তারা কারা? আমরা তাদের পরিচয় জানতে চাই। তারা যেভাবে আমাদের উপর হামলা করেছে, তা সন্ত্রাসী আচরণ। আমরা এর বিচার চাই। কামাল বায়েজীদ বলেন, যারা হামলা করেছে, এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় এনে শিল্পচর্চার সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বিক্ষোভকারীদের দাবি স্পষ্ট নয় জানিয়ে কামাল বায়েজীদ বলেন, তারা এসে বলছে ‘দেশ বাংলা’র নাটক বন্ধ করতে হবে। তারা নাটকের দলের নামও জানে না। বলছে, বাংলা একাডেমিতে নাটক করতে দেওয়া হবে না। এটা যে শিল্পকলা একাডেমি, এটাও তারা জানে না। তাহলে তারা কারা? নাটক বন্ধ করার মতো দাবি তুলে যে সন্ত্রাসী আচরণ করছে, তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাদেরকে কারা মদদ দিচ্ছে, তাদের পরিচয়ও সামনে আনতে হবে। আলোচনায় বসে সমাধান করার চিন্তা আছে কি না প্রশ্নে কামাল বায়েজীদ সাংবাদিকদের বলেন, তারা কারা, এটাই তো আমরা জানি না। তাদের তো একটা প্ল্যাটফর্ম থাকতে হবে। তারপর তাদের সঙ্গে কথা বলা যায়। কয়েকজন ব্যক্তি একটা ‘মব’ সৃষ্টি করে নাটক বন্ধ করার দাবি তুলবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের অনুষ্ঠান সম্পাদক খন্দকার শাহ আলম বলেন, যারা এই হামলা করেছে, তারা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা বলে পরিচয় দিচ্ছে। নাট্যাঙ্গনেও তো অনেকেই জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিল, আহতও হয়েছে। যে দলের নাটক তারা বন্ধ করার দাবি তুলেছে, সেই দলেও আন্দোলনে অংশ নেওয়া আছে। নাট্যদলে তো নানা রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ আছে। একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ, কিন্তু নাটক বন্ধ করতে চায়। তারা আসলে কি চায়? সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন ঝুনা চৌধুরী, তপন হাফিজ, ‘নিত্যপুরাণ’ নাটকের নির্দেশক ও নাট্যকার মাসুম রেজা, অভিনেতা কামাল আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনের বাইরেও বিক্ষোভ: গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন শিল্পকলা একাডেমির মেইন গেইটের সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ১০ থেকে ১৫ জন বিক্ষোভকারী। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ/শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘তুমি কে আমি কে বাংলাদেশ বাংলাদেশ’। তাদের কাছে পরিচয় জানতে চাইলে, তারা ‘সাধারণ জনতা’ বলে নিজেদের পরিচয় দেন। তবে তাদের বেশিরভাগই নিজেদের নাম বলতে রাজি হননি।
তাদের মাঝে রনি নামে একজন গণমাধ্যমকে বলেন, এহসান বাবু দেশ নাটকের পৃষ্ঠপোষক, সে আওয়ামী লীগের দালাল। আমাদের উপদেষ্টাদের নিয়ে কটুক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে। আমরা তার নাটক এখানে করতে দেব না। এহসান বাবুর কোনো নাটক তিনি দেখেছেন কী না বা কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন কী না প্রশ্নে রনি বলেন, আমি মালিবাগে থাকি, সংস্কৃতি অঙ্গনের কেউ না। প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়ানোদের মধ্য থেকে চারজনকে রমনা থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তাদের মধ্যে রনিও আছেন। এ সময় দায়িত্বরত মোস্তফা নামে একজন পুলিশ সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।
ইউডি/এজেএস

