শিল্পকলাকে বাঁচাতে হবে জনগণকেই: সৈয়দ জামিল আহমেদ
আসাদ এফ রহমান। রবিবার, ১০ নভেম্বর , ২০২৪, আপডেট ১৫:২৯
দেশ নাটকের ‘নিত্যপুরাণ’ নাটকের প্রদর্শনী বন্ধের পরদিন গণমাধ্যমে এর পেছনের কারন তুলে ধরেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ। ওইদিন তিনি বলেছিলেন, দর্শকের ‘নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে’ শিল্পকলা একাডেমিতে নাটকের প্রদর্শনী মাঝপথে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি দেখে তার শঙ্কা হয়েছিল শিল্পকলা একাডেমিও ‘আক্রান্ত হতে পারে’। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় নয়, জনগণের আন্তরিক চেষ্টায় একটি ‘জনবান্ধব শিল্পকলা একাডেমি’ গড়ে তোলার প্রত্যাশাও রেখেছেন এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, সা¤প্রতিক সময়ে দেশের ২২ জায়গায় শিল্পকলা একাডেমিতে হামলা হয়েছে। সেসব মাথায় ছিল। আর এখানে ভেতরে দর্শক ছিল।
উত্তেজিত কেউ গিয়ে যদি দর্শকদেরও আক্রমণ করে বসে। দর্শকের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমরা প্রদর্শনী বন্ধ করি। আমি ভেতরে গিয়ে দর্শকের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। শিল্পকলাকে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ার স্বপ্নের কথা বলেন জামিল আহমেদ। তিনি বলেন, গত এক মাসে এখানে এমন অনেক নাটকের দল নাটক করেছে, যাদের নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আমি এবং আমার সহকর্মীরা বলেছি, তাদের নাটক করতে দিতে হবে। দর্শক তাদের নাটক দেখে বিবেচনা করবে, তাদের নাটক দর্শক দেখবে কী না। তারা কিন্তু নাটক করেছে। কোনো সমস্যা হয়নি। দেশ নাটকের ‘নিত্যপুরাণ’ নাটক নিয়েও আপত্তি ছিল না। উত্তেজিত জনতার আপত্তি কেবল একজন ব্যক্তিকে নিয়ে। পরে তারা দেশ নাটকের প্রদর্শনীও বন্ধের দাবি তোলে। ‘জনগণকেই শিল্পকলার দায়িত্ব নিতে হবে’ মন্তব্য করে জামিল আহমেদ বলেন, সেনাবাহিনীর পাহারায় নয়। জনগণই যেন শিল্পকলাকে রক্ষা করে। আমরা এমন জনবান্ধব শিল্পকলা চাই। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বলে আসছি, ‘শিল্প-সংস্কৃতিকে রাষ্ট্রের কেন্দ্রে বিবেচনা করতে হবে’। সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।
ঘটনার বর্ণনা করে জামিল আহমেদ বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চে শিল্পকলার আয়োজনে যাত্রা উৎসব চলছে। আমি এবং নাট্যকলা বিভাগের পরিচালক ফয়েজ জহির সেখানে ছিলাম। নাট্যশালার সামনে বিক্ষোভ হচ্ছে শুনে আমি যাই। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলি। তারা বলে, এহসানুল আজিজ বাবু স্বৈরাচারের দোসর। তার নাট্যদলের প্রদর্শনী করতে দেবে না। আমি তাদের বুঝিয়েছি, দেশ নাটকের জনা বিশেক সদস্যও জুলাই গণঅভ্যুথানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধও আছে। জামিল আহমেদ বলেন, প্রথমে তারা মেনে নেয়, আমরা নাটকের প্রদর্শনী শুরু করতে বলি। কিন্তু পরে আবার বিক্ষোভ শুরু করে। তখন তারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তাদের একজন নিজেকে রিকশাচালক পরিচয় দিয়ে জানায় যে জুলাই আন্দোলনে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
শিল্পকলা একাডেমি ‘আক্রান্ত হওয়ার’ শঙ্কা তৈরি হয়েছিল মন্তব্য করে জামিল আহমেদ বলেন, “আমি এটাও বলেছি, আমার বুকের উপর দিয়ে যান। তখন আমাকে পাশ কাটিয়ে দেয়াল টপকে কয়েকজন ঢুকে পড়ে। যখন গেইট ভেঙে ফেলে, তখন আমরা দেশ নাটকের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রদর্শনী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী সহযোগিতা কেন নেওয়া হল না প্রশ্নে জামিল আহমেদ বলেন, মাত্র কিছুদিন আগেই গুলি চলেছে। আমরা আর দমনপীড়ন চাইনি। সেখানে বিক্ষোভ করতে যারা এসেছিলেন, তাদের মাঝেও দুজন ছিলেন জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ, এর মধ্যে একজন রিকশাচালকও ছিলেন। আমি তাদের বুঝিয়েছি, শিল্পকলার কণ্ঠ যেন কেউ রোধ না করে। শেখ হাসিনার মত স্বৈরাচার আমরা হতে চাই না। আমি নাটক করে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। দুবার তাদের বোঝাতেও পেরেছিলাম। কিন্তু পরে আর পারিনি।
ইউডি/এজেএস

