টরকী-সাউদের খাল দখলে অস্তিত্ববিলীন
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪, আপডেট ১৯:০০
প্রভাবশালীদের দখলের দাপটে অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকী-সাউদের খাল। প্রায় সাড়ে ১০ কিলোমিটর খালের টরকীর বন্দর এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার খাল প্রায় ২৫ জন প্রভাবশালী দখলে নিয়ে নির্মাণ করেছেন স্থায়ী স্থাপনা। খাল দখলের ফলে নৌপথে ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহনে ভোগান্তি ও কৃষিজমিতে সেচ সংকটসহ সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।
স্থানীয় লোকজন, ভুক্তভোগী কৃষক, দখলদার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আড়িয়াল শাখা নদী পালরদী নদীর টরকী মোহনা থেকে উত্তরে প্রবহমান প্রায় সাড়ে ১০ কিলোমিটর দৈর্ঘ্য টরকী-সাউদের খাল। টরকী বন্দরের কয়েক হাজার ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতার মালামাল পরিবহনসহ এলাকার সুন্দরদী, টরকীরচর, বাউরগাতি, বাঘমারা গ্রামের কয়েক হাজার কৃষকের ফসল উৎপাদন ও পরিবহনে খালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীর দখলের ফলে খালটির প্রায় ১ কিলোমিটর জায়গা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, টরকী বন্দরের পূর্বপাশ পালরদী নদীর সংযোগ মুখ থেকে সাউদের খালের উত্তরে টরকী স’মিলের পাশ খাল ভরাট করে সমতল ভূমিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য পাকা, আধাপাকা স্থাপনা। দেখে বোঝার উপায় নেই যে এখানে কোনোদিন কোনো খালের অস্তিত্ব ছিল।
টরকী বন্দরের কাঠ ব্যবসায়ী বেল্লাল বেপারী বলেন, ‘মুই ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে টরকীতে আসতাম। এই খালে শত শত নৌকা বাঁধা থাকত। দূরদূরান্তের লোকজন বেচাকেনা করে নৌকায় মামামাল নিয়ে যেত।’
মুলাদী উপজেলার চরকালেখা গ্রামের আবু তালেব হাওলাদার বলেন, বন্দরের বুক চিরে টরকী-সাউদের খালটি থাকায় আমরা ব্যবসায়ীরা সহজেই নৌপথে মালামাল পরিবহন করতে পারতাম।
কটকস্থল গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গির হোসেন, তারাকুপি গ্রামের হালিম শাহ, আনন্দপুর গ্রামের সানাউল হকসহ কয়েকজন জানান, খালের দু’পাশে ২০টি বোরো প্রকল্পে সেচ দেওয়া হতো। খালটি ভরাট করায় বোরো মৌসুমে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে।
গৌরনদী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল হাকিম খান বলেন, খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে টরকী বন্দরের বর্জ্য বের হচ্ছে না । ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বন্দরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক হাজার ব্যবসায়ীকে। দখলের বিষয়ে রুহুল আমিন খাল ভরাট বিষয়ে বলেন, আমার রেকর্ডীয় সম্পত্তির অংশ খালে থাকায় তা ভরাট করেছি।
এ ছাড়া জাকির হোসেন, আজিজ মাল, রুহুল সিকদার, রব সিকদার, মো. ফরহাদ হোসেন, কমল রায়, শাহ আলম খান, শামীম খান, আকতার হোসেনসহ সকল দখলদার ‘লিজ নিয়ে ভোগ দখল করেছেন’ বলে দাবি করেন।
গৌরনদী উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. শাহজাদা বলেন, খালের কোনো জমি লিজ দেওয়া হয়নি। দখলদাররা খাল পাড়ের কিছু অংশ খাসজমি লিজ নিয়ে খাল দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।
গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন বলেন, শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করে খাল দখলমুক্ত করা হবে। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু আবদুল্লাহ খান বলেন, কাউকে জনস্বার্থ বিরোধী কাজ করতে দেওয়া হবে না। খালটি দখলমুক্তসহ দখলদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউডি/কেএস

