বাংলাদেশের বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতি: অভিযোগ উড়িয়ে দিল রাশিয়ার সংস্থা
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪, আপডেট ১৫:৪৫
বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে বিরাট দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে রাশিয়ার সংস্থারও অবদান রয়েছে। সেক্ষেত্রে এবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পরমাণু সংস্থা মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে দুর্নীতি বিরোধী প্যানেলের তোলা দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। খবর-হিন্দুস্তান টাইমসের।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ এবং ভাগ্নি ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (এনপিপি) ৫০০ কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে শুরু করেছে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন ।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পরমাণু সংস্থা রোসাটমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে গণমাধ্যমে যেসব উসকানিমূলক বক্তব্য এসেছে তা প্রত্যাখ্যান করছে রাষ্ট্রীয় করপোরেশন রোসাটম। রোসাটম উন্মুক্ততার নীতি এবং সকল প্রকল্পে দুর্নীতি দমনের নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একটি স্বচ্ছ ক্রয় ব্যবস্থা বজায় রাখে। বাহ্যিক নিরীক্ষা নিয়মিতভাবে প্রকল্পের ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াগুলির উন্মুক্ততা নিশ্চিত করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রোসাটম স্টেট করপোরেশন আদালতে নিজেদের স্বার্থ ও সুনাম রক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে। এতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত মিথ্যা বক্তব্যকে আমরা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা বলে মনে করি, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ সমস্যা সমাধানে এবং বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে উন্নয়নের লক্ষ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
রোসাটম কর্তৃক বাস্তবায়িত হচ্ছে এমন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নে ভারতীয় কোম্পানিগুলো জড়িত। ভারত-রাশিয়া চুক্তির আওতায় তৃতীয় কোনো দেশে পরমাণু শক্তি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এটিই প্রথম উদ্যোগ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
এর আগে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫০০ কোটি ডলারের বেশি আত্মসাৎ করেন বলে গত ১৭ আগস্ট প্রকাশিত গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা-রোসাটম মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংকের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে এ অর্থ আত্মসাতের সুযোগ করে দেয়। যাতে মধ্যস্ততা করেন ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় ও ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক। গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পের প্রতিবেদনের পরই বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এই সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ইউডি/এজেএস

