ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়ি প্রবেশে কড়াকড়ি ‘কিছুটা শিথিল’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়ি প্রবেশে কড়াকড়ি ‘কিছুটা শিথিল’

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার (০৪ জানুয়ারি), ২০২৪, আপডেট ২৩:৪০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গাড়ি প্রবেশে যে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত তা ‘কিছুটা শিথিল’ করার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, কর্মদিবসে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত গাড়ি চলতে দেওয়ার হচ্ছে।

শনিবার (০৪ জানুয়ারি) সাইফুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।

“অফিস-আদালত থেকে ফিরতে মানুষের যেন বেশি কষ্ট না হয় সেজন্যে ৬টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত আমরা গাড়ি যেতে দিচ্ছি।”

আগে শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনগুলোতে বিকাল ৩টা থেকে রাত ১০টা এবং কর্মদিবসে বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে যানবাহন প্রবেশ করতে দেওয়া হত না।

এরপর থেকে শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে যানজট শুরু হয়। সে কারণে নানা মহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ উদ্যোগের সমালোচনা চলছিল।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক নামে একটি সংগঠন ক্যাম্পাসে যানবাহন ও বহিরাগতদের চলাচল সীমিত করার উদ্যোগ প্রত্যাহারের দাবি জানায়। তার দুইদিনের মাথায় প্রক্টর কিছুটা শিথিল করার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন।

হঠাৎ ক্যাম্পাসে যানবাহন চলাচল সীমিত করে ২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর ‘জরুরি বিজ্ঞপ্ত’ দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তবে ১৩ ডিসেম্বর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি প্রবেশ পথে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়। প্রবেশপথগুলো হলো- শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, বার্ন ইউনিট, শিববাড়ি ক্রসিং, ফুলার রোড, পলাশী মোড় ও নীলক্ষেত।

‘শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে’ ক্যাম্পাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকার বিষয়টি তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, নির্ধারণ করে দেওয়া সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি, জরুরি সেবা (অ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার, রোগী, সাংবাদিকসহ অন্যান্য সরকারি গাড়ি) ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে চলাচল করতে পারবে না।

সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন বলেছিলেন, ক্যাম্পাসে সকালের দিকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে আসে এবং এখানে দুটি স্কুল ও কিছু ব্যাংক থাকায় সকালে দাপ্তরিক কাজেই মানুষ ক্যাম্পাসে আসে।

‘কিন্তু বিকালের দিকে হ্যাংআউটের উদ্দেশ্যেই ক্যাম্পাসে মানুষ বেশি আসে। সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষেই এই সময় সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বিকাল বেলায় যে ভিড় দেখা যায়, সে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষক নেটওয়ার্কের এ বিশ্ববিদ্যালয়টির সদস্যরা সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের আলোচনার বিষয় শুক্রবার সংগঠনটির ফেইসবুক পেইজে এক বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়।

সংগঠনটি বলছে, ক্যাম্পাসে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত করার সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগের কারণ। এতে জনমনে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading