সম্প্রচারে ফিরছে আফগান নারীদের ‘রেডিও বেগম’

সম্প্রচারে ফিরছে আফগান নারীদের ‘রেডিও বেগম’

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, আপডেট ১৭:৪৭

আফগানিস্তানে নারীদের জন্য বিশেষায়িত একমাত্র রেডিও স্টেশন ‘রেডিও বেগম’ আবার সম্প্রচারে ফিরতে চলেছে। কিছু শর্ত মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর স্টেশনটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছে তালেবান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। আরব নিউজ-এর এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

২০১১ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ‘রেডিও বেগম’ যাত্রা শুরু করে, যা মূলত নারীদের জন্য শিক্ষামূলক এবং স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক প্রোগ্রাম প্রচার করত। মাত্র পাঁচ মাস পর, ২০২১ সালে, তালেবান আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখল করে এবং তখনো রেডিও স্টেশনটি নিয়মিত সম্প্রচার চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু কিছুদিন পর ‘অনুমোদনহীনভাবে বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলে কন্টেন্ট সরবরাহ’ এবং ‘লাইসেন্সের অপব্যবহার’ করার অভিযোগে তালেবান সরকার রেডিও বেগমের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। তালেবান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, রেডিও বেগম কর্তৃপক্ষ সম্প্রচার পুনরায় চালুর জন্য একাধিকবার আবেদন করেছে।

সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের কার্যক্রম ‘সাংবাদিকতার নীতিমালা এবং ইসলামিক আমিরাতের বিধি অনুযায়ী’ পরিচালিত হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের লঙ্ঘন করা হবে না। এর পরেই রেডিও বেগমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে, তালেবান সরকার ঠিক কী কী নীতি ও বিধির শর্ত আরোপ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। রেডিও বেগম, যা আফগানিস্তানের নারী জনগণের জন্য স্বাস্থ্যমূলক, শিক্ষা ও সামাজিকবিষয়ক প্রোগ্রাম প্রচার করে, আফগানিস্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মহিলাভিত্তিক গণমাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। সম্প্রচার পুনরায় শুরু হওয়ার ফলে দেশটির নারী জনগণের জন্য তথ্য, শিক্ষা এবং সচেতনতার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে।

রেডিও বেগম প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা ধরে পাঠদানসহ স্বাস্থ্য, মনস্তত্ত্ব এবং আধ্যাত্মিকতা বিষয়ক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করত। স্টেশনটি জানায়, এটি আফগান নারীদের জন্য শিক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল এবং কোনো রাজনৈতিক কর্মকা-ে যুক্ত ছিল না। রেডিও বেগমের সহপ্রতিষ্ঠানগুলোও অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করত, যা ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত স্টুডিও থেকে সম্প্রচারিত হতো। টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রমটি আফগানিস্তানের নারীদের জন্য শিক্ষার একটি সুযোগ এনে দিয়েছিল। দেশটিতে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের পড়াশোনা নিষিদ্ধ করেছে তালেবান সরকার।

২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দেশের গণমাধ্যমের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তালেবান। প্রথমদিকে তারা তুলনামূলকভাবে উদার নীতির প্রতিশ্রুতি দিলেও ধীরে ধীরে নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২৩ সালে তালেবান সরকার কমপক্ষে ১২টি সরকারি ও বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের সর্বশেষ সংবাদ স্বাধীনতা সূচকে আফগানিস্তান ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭৮ তম স্থানে রয়েছে।

মি/গাজী

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading