যৌন হয়রানি: প্রতিরোধ ও প্রতিকারে দ্রুত আইন পাস করার দাবি কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের

যৌন হয়রানি: প্রতিরোধ ও প্রতিকারে দ্রুত আইন পাস করার দাবি কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৯ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৯:৩০

যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকারে দ্রুত আইন পাস করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম। সারা দেশে কন্যাশিশু ও নারীর ওপর নির্যাতন ও নিপীড়নের মাত্রা বাড়ছে মন্তব্য করে এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্যাতনকারীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে ফোরামের পক্ষ থেকে। রবিবার (০৯ মার্চ) ফোরামের ২০৬টি সদস্য সংগঠনের পক্ষে পাঠানো এক বিবৃতিতে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকার’ শীর্ষক আইন পাস করার দাবি জানানো হয়।

ফোরামের সভাপতি বদিউল আলম মজুমদার ও সহ-সভাপতি শহীন আক্তার ডলি স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, সারা দেশে কন্যাশিশু ও নারীর ওপর নির্যাতন ও নিপীড়নের মাত্রা বাড়ছে। নির্যাতনকারীদের শাস্তি না হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে, যা আমাদেরকে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ করে তুলছে।

জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম মনে করে, যে কোনো প্রকারের নারী নির্যাতনের ঘটনায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি, মামলা করতে না দেওয়া বা আপসের জন্য অপরাধীদের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ, সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত না হওয়া, সামাজিক লোকলজ্জা ও ভীতি, ইত্যাদি কারণে এ ধরনের অপরাধের শিকার ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। যে কারণে শহর-গ্রামে বয়স্ক নারী, তরুণী হতে কন্যাশিশুরাও নির্যাতন-নিপীড়ন-ধর্ষণ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।

মাগুরায় শিশু ধর্ষণের ঘটনা তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, এক কন্যাশিশু, যার বয়স মাত্র আট বছর, সেও ধর্ষণ থেকে রেহাই পায়নি। ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ফলে শিশুটি এখন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এ ঘটনায় শুধু ওই কন্যাশিশুই নন, তার দরিদ্র পরিবারও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ওই কন্যাশিশু ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ধর্ষণের শিকার’ হয়েছে অভিযোগ করে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের পক্ষ থেকে শিশুটির সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন চিকিৎসা, তার পরিবারের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা এবং দোষীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয় বিবৃতিতে।

সেখানে বলা হয়, শুধু মাগুরার কন্যাশিশুই নয়, যে কোনো নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ বা অন্য যে কোনো ধরনের নিপীড়নকে গুরুত্ব সহকারে দেখা এবং এসব ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি আমরা। আমাদের বিশ্বাস, নারী নির্যাতনের ঘটনায় অপরাধীদের কঠিন শাস্তি ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা গেলে নির্যাতন-নিপীড়ন ও যৌন হয়রানির ঘটনা কমে আসবে।

মাগুরার আট বছরের কন্যাশিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় ইতোমধ্যে অপরাধীরা আটক হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। কিন্তু এ ঘটনায় অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি প্রদানের মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি। এছাড়া সারাদেশে নারী নির্যাতন ও হয়রানির যেসব ঘটনা ঘটছে সেগুলোর সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সর্বক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে দ্রুত ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ পাস করার দাবি জানাচ্ছি।”

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও নারীর অধিকার সুরক্ষায় সোচ্চার হওয়ার জন্য ফোরামের পক্ষ থেকে সব সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

ইউডি/এজেএস

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading