আদানি’র বিদ্যুৎ নিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত কতোটুকু?

আদানি’র বিদ্যুৎ নিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত কতোটুকু?

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৭: ১২

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি বাবদ আদানি পাওয়ারের বিপুল পরিমাণ পাওনা বকেয়া পড়ে যায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। সে সময়ে আদানি পাওয়ারকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাবদ বিল পরিশোধ করা হতো প্রতি মাসে গড়ে ২০-৩০ মিলিয়ন ডলার।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর আদানির কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিল পরিশোধও বেড়েছে আগের চেয়ে তিন-চার গুণ। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ৮০-৮৫ মিলিয়ন ডলার বিল পাচ্ছে আদানি পাওয়ার। চলতি মার্চেও আদানি পাওয়ারকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাবদ ৯৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিল পরিশোধ করেছে বিপিডিবি।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) আদানি পাওয়ার ঝাড়খণ্ড লিমিটেডের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার দাবির বিরোধিতা করেছে। সংস্থাটি বলছে, আদানির কয়লা মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতির কারণে ১৪১ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত চার্জ করা হয়েছে। আদানির দাবি, পিডিবির কাছে তাদের ৭৭১ মিলিয়ন ডলার পাওনা আছে। তবে পিডিবির হিসাব অনুযায়ী প্রকৃত পাওনা প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলার।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ বলেন, ‘আমরা আদানির মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতির সঙ্গে একমত নই। আমরা যা ন্যায্য মনে করি, সেই অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করছি।’

পিডিবি জানুয়ারিতে আদানিকে দুবার চিঠি দিয়ে অতিরিক্ত চার্জের ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং বিলম্বে পরিশোধের ফি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিশেষ আইনের আওতায় আদানির সঙ্গে করা চুক্তি বাতিলের জোর দাবি ওঠে।

নভেম্বরে এ ক্রয়চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিটও করা হয়। আদানিসহ ১১ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে ক্রয়চুক্তি খতিয়ে দেখতে গত অক্টোবরে জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।

এ কমিটি এরই মধ্যে এসব চুক্তি পর্যালোচনার জন্য আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করেছে। এ কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায়ই বাড়ানো হয়েছে আদানির কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় ও বিল পরিশোধ।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিতর্ক থাকলেও এ মুহূর্তে বিপিডিবির সঙ্গে করা চুক্তি নিয়ে আদানি গ্রুপের মধ্যে খুব একটা উদ্বেগ নেই। অন্তর্বর্তী সরকারও এখন আদানির বকেয়া পরিশোধ ও তাদের কাছ থেকে বিদ্যুতের বাড়তি সরবরাহ নেয়া ছাড়া আর কিছু ভাবছে না। যদিও অসম শর্তের ভিত্তিতে পতিত বিগত সরকার কোম্পানিটির সঙ্গে এ চুক্তি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শ্রীলংকা এরই মধ্যে দুর্নীতি, প্রতিবেশগত ক্ষতি ও বিদ্যুতের দাম বেশি হওয়ার অভিযোগ তুলে আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তি বাতিল করেছে। আফ্রিকার দেশ কেনিয়াও এরই মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের দুটি চুক্তি বাতিল করেছে।

চলতি গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আদানিও এখন ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দুটি ইউনিট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানি করছে। ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট স্থাপিত সক্ষমতার (ইনস্টলড ক্যাপাসিটি) বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ পরিমাণ বিদ্যুৎ কিনেছে বিপিডিবি।

বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে গড়ে আদানি পাওয়ারের বিল আসে কম-বেশি ৭০-৭৫ মিলিয়ন ডলার। আর গত অক্টোবর থেকে প্রতি মাসে আদানি পাওয়ারকে গড়ে ৮৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট মাসের বিলের পাশাপাশি প্রদেয় বকেয়া বিলও রয়েছে। ছয় মাস ধরেই আদানি পাওয়ারকে এভাবে নিয়মিত বিলের পাশাপাশি কিছু পরিমাণে বকেয়াও পরিশোধ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা আদানির বকেয়া সাধ্যমতো পরিশোধ করছি। দ্রুত বা নির্দিষ্ট কোনো সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে, এমন কোনো কিছু নির্ধারিত নেই। বিষয়টি পুরোপুরি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল। আমরা সেখান থেকে যেভাবে ভর্তুকির অর্থ পাব, সেভাবেই পরিশোধ করব।’

ইউডি/ আরকে

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading