ভূমিকম্পের পর বাতাসে লাশের গন্ধ, স্বজন হারানোর শোকে কাঁদছে মিয়ানমার

ভূমিকম্পের পর বাতাসে লাশের গন্ধ, স্বজন হারানোর শোকে কাঁদছে মিয়ানমার

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০২৫, আপডেট ১৬:০০

মিয়ানমারের সাগাইং শহরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর পুরো এলাকা মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে অসংখ্য প্রাণ।

স্থানীয় বাসিন্দা থার ন্‌গে জানান, ‘প্রতি ঝাপটায় মরদেহের গন্ধ নাকে আসছে।’ শুক্রবারের (২৮ মার্চ) ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সাগাইং, যেখানে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।’

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাগাইংয়ের কাছে ইরাবতি নদীর ওপর ইয়াদানাবন সেতু ধসে পড়ায় মান্দালয় থেকে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে দেরি করেছেন। থার ন্‌গে জানান, মাত্র কিছুক্ষণ আগেই উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছেছেন।

এখন পর্যন্ত ১,৭০০ জনের বেশি নিহত, আহত প্রায় ৩,৪০০ জন। ৯০ বছর পুরোনো অ্যাভা সেতুসহ বহু স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাগাইং শহরের বহু মঠ ও নানাবাস ধসে পড়েছে, যেখানে অনেক সন্ন্যাসী ও সন্ন্যাসিনী আটকা পড়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা জানান, জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা এখন অনেকটাই কমে গেছে, বরং মরদেহ বের করাই প্রধান লক্ষ্য।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে মান্দালয় শহরে ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় উদ্ধারকারীরা খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে জীবিতদের বের করার চেষ্টা করছেন।

ভূমিকম্পে রাস্তা ও সেতু ধস উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়েছে। বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন, মোবাইল নেটওয়ার্কও সীমিত রয়েছে। প্রচণ্ড গরমে (৩৯-৪০°C) মরদেহ দ্রুত পচে যাচ্ছে।

উদ্ধারকর্মী হ্‌তেত ওয়াই জানান, এই দুর্যোগে মরদেহ বহনের ব্যাগও পর্যাপ্ত নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম উদ্ধার অভিযানেই লাশ পেতে হয়েছে। আরও অনেক লাশ পাওয়ার আশঙ্কা করছি। তবে আমরা যত প্রাণ সম্ভব বাঁচানোর চেষ্টা করব।’

আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা ৪০°C ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকর্মীদের কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

হ্‌তেত ওয়াই বলেন, ‘আমরা যে মরদেহ উদ্ধার করেছি, তা ইতোমধ্যেই পচে গেছে। এটি হৃদয়বিদারক।’

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।

ইউডি/সিফাত

Taanjin

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading