শুল্কযুদ্ধে ট্রাম্পের পাঁচ লক্ষ্যের একটাও কি অর্জিত হলো?

শুল্কযুদ্ধে ট্রাম্পের পাঁচ লক্ষ্যের একটাও কি অর্জিত হলো?

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার (১১ এপ্রিল), ২০২৫, আপডেট ২৩:৪৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে একটি বড় ধরনের শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণা দেন, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দেয়। যদিও সেই পরিকল্পনার বড় একটি অংশ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী ৯০ দিনের জন্য বেশিরভাগ দেশের ওপর বাড়তি শুল্ক স্থগিত করেছেন তিনি। কিন্তু চীনের সঙ্গে এই শুল্কযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ পরিবর্তনের মাধ্যমে ট্রাম্প তার বাণিজ্যনীতির যে কয়েকটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এগোচ্ছেন তার কতটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন?

১. অপেক্ষাকৃত বাণিজ্য চুক্তি

ট্রাম্প বারবার বলেছেন, আমেরিকাকে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শোষণ করেছে। তার প্রস্তাবনায় সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক এবং কিছু দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছিল। এতে বিশ্বের বহু দেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

ট্রাম্প দাবি করেন, বিশ্বের অন্তত ৭৫টি দেশের নেতারা তার সঙ্গে চুক্তি করতে যোগাযোগ করেছেন। মার্কিন সরকার জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এসব দেশকে কোনো না কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির কারণে অন্তত আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

২. অভ্যন্তরীণ শিল্প খাতকে চাঙ্গা করা

ট্রাম্পের আশা ছিল, শুল্ক বসিয়ে দেশের শিল্প খাতকে আবার সক্রিয় করবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, হুটহাট সিদ্ধান্ত পাল্টানোর ফলে ব্যবসায়ীরা দ্বিধায় পড়ছেন। আজ যদি গাড়ি শিল্প রক্ষা পায়, কাল হয়তো ইলেকট্রনিক্স শিল্প টার্গেট হবে। শুল্ক নীতিতে ধারাবাহিকতা না থাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বড় কোনো বিনিয়োগে যেতে সাহস পাচ্ছে না।

যখন প্রেসিডেন্টের ইচ্ছানুযায়ী শুল্ক আরোপ করা হয় এবং তা তুলে নেয়া হয়, তখন আমেরিকা এবং বিদেশে থাকা কোম্পানিগুলো খুব সম্ভবত কোনো বড় প্রতিশ্রুতি দেয়ার আগে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার অপেক্ষা করবে।

৩. চীনকে মোকাবিলা

ট্রাম্প বলেছেন, চীন বহুদিন ধরে আমেরিকাকে বাণিজ্যে ঠকিয়ে এসেছে। তিনি চীনকে শুল্কযুদ্ধের মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এখন মূলত চীনের বিরুদ্ধে শুল্ক নীতিকে ব্যবহার করছেন।

ট্রাম্প আবার এটাও বলেছেন যে, বর্তমান সমস্যার জন্য তিনি চীনকে নয়, বরং মার্কিন পুরনো নেতৃত্বকে দায়ী করেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি চীন এগিয়ে এসে চুক্তির ইচ্ছা দেখায়, তবে ট্রাম্প ‘অত্যন্ত উদারতা’ দেখাবেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের সঙ্গে শক্ত অবস্থান নেয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে আমেরিকার প্রয়োজনীয় মিত্ররা দূরে সরে যেতে পারে।

যদিও এই সংঘাত ট্রাম্প চাইছেন, তবুও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সাথে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার সঙ্গে বিশাল ঝুঁকি রয়েছে। এবং এই লড়াইয়ের পথে আমেরিকা হয়তো তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় মিত্রদের বিচ্ছিন্ন বা একা করে ফেলবে।

৪. রাজস্ব আয় বাড়ানো

ট্রাম্প মনে করেন, শুল্ক থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আসবে, যা দিয়ে কর কমানো ও জাতীয় ঋণ পরিশোধ সম্ভব হবে। এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হলে ১০ বছরে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসতে পারে।

এদিকে মার্কিন কংগ্রেস যে করছাড় দিয়েছে, তা একই সময়ে ৫ ট্রিলিয়ন (৫ লক্ষ কোটি) ডলার ঘাটতি তৈরি করতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

৫. মার্কিন ভোক্তাদের জন্য পণ্যের মূল্য কমানো

ট্রাম্প বলেছেন, দেশের ভেতরে উৎপাদন বাড়লে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং এতে পণ্যের দাম কমবে। কিন্তু অর্থনীতিবিদদের মতে, শুল্ক আরোপে সাধারণত পণ্যের দাম বেড়ে যায়, কারণ আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়ে এবং ঘরোয়া পণ্যের প্রতিযোগিতা কমে যায়।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কারণে মার্কিন পরিবারগুলোর বছরে গড়ে অতিরিক্ত ১ হাজার ২৫৩ ডলার ব্যয় হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নিম্নআয়ের পরিবারগুলো এই শুল্কের বোঝা সবচেয়ে বেশি অনুভব করবে, যা ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: বিবিসি

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading