গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের কর্তৃত্ব কমানোর প্রস্তাব অনুমোদন
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল), ২০২৫, আপডেট ২৩:৪০
শান্তিতে নোবেলজয়ী ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর সরকারের কর্তৃত্ব কমিয়ে গ্রাহক বা উপকারভোগীর ক্ষমতা বাড়াতে আইন সংশোধনের প্রস্তাবে সায় দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এখন রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সেরে অধ্যাদেশ আকারে জারি করলেই গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা কাঠামো ও কর্তৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
এই ব্যাংকে সরকারের অংশীদারত্ব ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। বাকি ৯০ শতাংশ থাকবে উপকারভোগীদের হাতে।
অধ্যাদেশ জারি হলে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকটির কর্তৃত্ব চলে যাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে।
উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তগুলো ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, আগে গ্রামীণ ব্যাংক একটা মূল্যবোধ নিয়ে কাজ করতো। যারা গ্রামীণ ব্যাংকের উপকারভোগী, তাদের এই ব্যাংক পরিচালনায় ভূমিকা ছিল। কিন্তু বিগত সময়ে বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করা হয়েছিল এবং গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানায় তার সেই দর্শন থেকে সরিয়ে অনেকাংশে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়।
“আজকের অধ্যাদেশটা সংশোধনের ফলে যেটা দাঁড়াল, তা হচ্ছে, পরিশোধিত মূলধন আগে ছিল সরকার ২৫ শতাংশ আর উপকারভোগীরা ৭৫ শতাংশ। এখন সরকার থাকবে ১০ শতাংশ আর উপকারভোগীরা ৯০ শতাংশ।”
উপদেষ্টা বলেন, আগে গ্রামীণ ব্যাংক কেবল ভূমিহীনদের জন্য কাজ করত। এখন বিত্তহীনদের একটি সংজ্ঞা সংযোজন করা হয়েছে।
ইউডি/এবি

