দুটি চরিত্র বিপরীত হলেও এক সুতোয় বাঁধা: রাশমিকা

দুটি চরিত্র বিপরীত হলেও এক সুতোয় বাঁধা: রাশমিকা

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১২ মে, ২০২৫, আপডেট ০৯:২০

‘সামি সামি’ গানের তালে আপামর ইন্ডিয়ার হৃদয়ে হিল্লোল তুলেছিলেন দক্ষিণী অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। বলিউডে তার অভিষেক হয়েছিল দক্ষিণী বহুভাষিক ছবি ‘পুষ্পা’র হাত ধরে। তারপর তিনি অভিনয় করেন রণবীর কাপুরের বিপরীতে ‘অ্যানিম্যাল’ ছবিতে ‘গীতাঞ্জলি’রূপে।

এ সিনেমায় অভিনয় করে অবশ্য রাশমিকা খানিকটা সমালোচিত হয়েছিলেন। তার চরিত্র নিয়ে যেমন দর্শকের মনে প্রশ্ন ছিল, তেমনই প্রশ্ন উঠেছিল তার অভিনয়প্রতিভা নিয়েও। তারপর এ অভিনেত্রীকে দেখা যায় সালমানের বিপরীতে ‘সিকান্দার’ সিনেমায়।  আবারও বলিউডের সিনেমায় অভিনয় করছেন রাশমিকা। এবার তার নায়ক আয়ুষ্মান খুরানা। এ ছবি হতে চলেছে ‘হরর-কমেডি’ ধারার। নাম ‘থামা’। ‘হরর-কমেডি’ ছবি বানাতে সিদ্ধহস্ত দীনেশ বিজন।

২০১৮ সালে তাঁর প্রযোজনায় মুক্তি পায় ‘স্ত্রী’। তারপর ‘ভেড়িয়া’, ‘মুঞ্জা’। শ্রদ্ধা কাপুর ও রাজকুমার রাও অভিনীত ‘স্ত্রী’ এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে তার সিক্যুয়াল ‘স্ত্রী ২’ ব্যাপক ব্যবসা করে। এরপর এখন তিনি নির্মাণ করছেন ‘থামা’।

এই সিনেমার ‘থামা’ নামটি এসেছে মহাভারতের অমর চরিত্র ‘অশ্বত্থামা’ থেকে। প্রেম, অভিশাপ আর অমরতার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। এটি নির্মাণ করছেন ‘মুঞ্জা’খ্যাত নির্মাতা আদিত্য সারপোতদার। ভ্যাম্পায়ার থিমে তৈরি এ রোমান্টিক-কমেডি সিনেমার দৃশ্যধারণ হয়েছে উটির ঘন জঙ্গলে। কুয়াশার চাদরে ঢাকা উটির জঙ্গলে গাছের ফাঁকে ভেসে আসে পাখির ডাক, আর ক্যামেরার লেন্সে ধরা পড়ে এক অসমাপ্ত ভালোবাসার নতুন গল্প। সিনেমার গল্পে দেখা যায় তরুণ গবেষক অর্জুন (আয়ুষ্মান খুরানা) বিজয়নগরের প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ দেখতে যান।

পুরাকীর্তির মাঝে তিনি খুঁজে পান কিছু অজানা লিপি, কিছু ছেঁড়া দলিল আর এক অভিশপ্ত প্রেমের চিহ্ন। ঠিক তখনই তার জীবনে প্রবেশ করে অনন্যা (রাশমিকা)–এক ভ্রমণপিপাসু, ইতিহাসপ্রেমী, স্বতঃস্ফূর্ত মেয়ে, যার উপস্থিতি রং ছড়ায় অর্জুনের গবেষণায়। এ দু’জনের সম্পর্ক শুরু হওয়ার আগে, ছায়ার মতো তাদের পিছু নেয় অতীত–ভয়ানক, রক্তাক্ত অতীত। সেই অতীতে ছিল বিজয়নগরের এক রাজকুমারী (রাশমিকা) এবং এক অভিশপ্ত যোদ্ধা অশ্বত্থামা (আয়ুষ্মান)।

হাজার বছরের শাপ বয়ে চলা সেই প্রেম, যাকে মৃত্যু স্পর্শ করতে পারেনি, যাকে ভোলা যায়নি–তারই ছায়া ঘিরে ধরে বর্তমানকে। এখানেই শুরু হয় গল্পের আসল মোড়। এ পর্যায়ে গল্পে প্রবেশ করেন এক রহস্যময় চরিত্র–নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি। এক সময় যে ছিলেন রাজদরবারের গোপন রক্ষক, এখন হয়ে উঠেছেন ভয়ের প্রতীক। তার আগমনে সামনে আসে সেই অশ্বত্থামার অতীত–যেখানে প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা আর রক্তের অন্ধকার একে অপরকে ছুঁয়ে গিয়েছিল।

সিনেমাটি নিয়ে রাশমিকা বলেন, ‘এই সিনেমায় আমি দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমি একইসঙ্গে আধুনিক যুগের অনন্যা আর অতীতের রাজকুমারী। দুই চরিত্র দুই বিপরীত দিক, কিন্তু এক সুতোয় বাঁধা। প্রতিটি দৃশ্য করতে গিয়ে বুক কেঁপেছে।’

আয়ুষ্মান বলেন, ‘এ ছবিতে আমি শুধু প্রেমিক নই, আমি এক অভিশপ্ত আত্মা। সেই আত্মার মধ্য দিয়ে আমি বুঝেছি–ভালোবাসা যদি সত্য হয়, তাহলে সময় কখনও তাকে হারাতে পারে না। সিনেমার নির্মাতা পৌরাণিকতা আর আধুনিক সময়ের রোমান্স একসঙ্গে মিশিয়েছেন এমনভাবে, যেন বাস্তব আর কল্পনার মাঝখানে দাঁড়িয়ে দর্শক নিজের আত্মার কোনো হারানো ইতিহাস খুঁজে পাবে।’

ইন্ডিয়ার গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, নির্মাতারা অপেক্ষা করছেন দীপাবলির। কারণ, চলতি বছরের দীপাবলির উৎসবের আলোয় যখন ‘থামা’ মুক্তি পাবে, তখন হয়তো অন্ধকার জঙ্গল আর অতীতের ছায়ার মাঝে নতুন আলো খুঁজে পাবেন দর্শক। হয়তো ভালোবাসা আবারও এক নতুন অর্থে ধরা দেবে–থেমে না থেকে, অমর হয়ে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading