নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হলো দেশীয় প্রযুক্তির আধুনিক তিনটি ডাইভিং বোট

নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হলো দেশীয় প্রযুক্তির আধুনিক তিনটি ডাইভিং বোট

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫, আপডেট ১:০০

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন ও ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিনটি আধুনিক ডাইভিং বোট– পানকৌড়ি, গাংচিল এবং মাছরাঙ্গা আনুষ্ঠানিকভাবে বহরে যুক্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে খুলনার নেভাল বার্থে আয়োজিত কমিশনিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

নৌপ্রধান বোটগুলোর অধিনায়কদের হাতে কমিশনিং ফরমান তুলে দেন এবং নৌবাহিনীর রীতি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে নামফলক উন্মোচন করেন। এ সময় খুলনা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল গোলাম সাদেক, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাহাজের কর্মকর্তা-নাবিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

লম্বা সাইরেন ও ঘণ্টা বাজিয়ে জাহাজ তিনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। খুলনা শিপইয়ার্ডে ২০২১ সালে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া এই বোটগুলো চলতি বছরের ৫ মে নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রতিটি ডাইভিং বোট দৈর্ঘ্যে ৩৮ দশমিক ৯০ মিটার এবং প্রস্থে ৯ মিটার। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫ নট গতিতে চলতে সক্ষম এই জাহাজগুলোতে রয়েছে ১২.৭ মিমি হেভি মেশিন গান, উন্নত সারভেইলেন্স র্যাডার, জিপিএস, ইকো-সাউন্ডারসহ আধুনিক ডাইভিং ও সেন্সর সিস্টেম।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি আধুনিক ও শক্তিশালী নৌবাহিনী অপরিহার্য। বাংলাদেশ একটি বিশাল সমুদ্রাঞ্চলের অধিকারী। এই বিশাল সামুদ্রিক সীমার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী যুদ্ধকালীন ও শান্তিকালীন উভয় সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত পর একদল সাহসী নৌসেনাকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ নৌবাহিনী। আজ সেই বাহিনীই একটি পূর্ণাঙ্গ ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়েছে। নৌবাহিনীর দায়িত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষত সমুদ্রসম্পদ রক্ষা ও ব্লু-ইকোনমি বাস্তবায়নে। শুধু দেশের ভেতরে নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশ নৌবাহিনী গৌরবজনক ভূমিকা রেখে চলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খুলনা শিপইয়ার্ডে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই তিনটি ডাইভিং বোট কমিশনিং করতে পারা আমার জন্য এক গর্বের বিষয়। এর মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীলতার পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে নৌবাহিনী।’

২০২১ সালের ১০ জুন খুলনা শিপইয়ার্ডে কিল লেয়িংয়ের মাধ্যমে তিনটি ডাইভিং বোট নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রয়োজনীয় নির্মাণ ও টেস্ট ট্রায়াল শেষে চলতি বছরের ৬ মে বোটগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রতিটি বোটের দৈর্ঘ্য ৩৮.৯০ মিটার ও প্রস্থ ৯ মিটার। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম এই বোটগুলোতে রয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির Retractable Mast, Launch and Recovery System (LRAS), Deck Decompression Chamber (DDC), উন্নত সার্ভেইল্যান্স র‍্যাডার, জিপিএস, ইকো-সাউন্ডার এবং আধুনিক কন্ট্রোল সিস্টেম।

ডুবুরি কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য প্রতিটি বোটে রয়েছে উন্নত সেন্সর ও আধুনিক ডাইভিং সরঞ্জাম। এতে নৌবাহিনীর ডুবুরিরা আরও দক্ষভাবে স্যালভেজ, উদ্ধার, অনুসন্ধান ও জরুরি ত্রাণ তৎপরতা চালাতে পারবেন। প্রতিটি বোটে ১২.৭ মি.মি. হেভি মেশিন গান সংযুক্ত থাকায় এগুলো সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নৌবাহিনী জানায়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনায় ডুবুরিদের সাহসী ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের ডুবে যাওয়া জাহাজ ও মাইন অপসারণে ডাইভিং ইউনিট অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে। সেই গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলো প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ডাইভিং বোট।

নৌবাহিনী আশা করছে, এই বোটগুলো শান্তিকালীন সময়েও সমুদ্র এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, স্যালভেজ অপারেশন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাড়া দেওয়া এবং কনস্টাবুলারি কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading