পিআর নির্বাচন চায় ইসলামী আন্দোলন, সমর্থন জামায়াতের
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার (১২ জুলাই) ২০২৫, আপডেট ২৩:৩০
সংবিধান এবং সংস্কারের ‘সুরক্ষায়’ ভোটের অনুপাতে আসন বন্টন (পিআর) পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচন নির্বাচন চায় চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন। এতে সমর্থন জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী বলছে, সংস্কার ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে না। সংস্কারে ঐকমত্যে না এসে বিএনপিই নির্বাচন পিছিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে এনসিপি, নাগরিক ঐক্য, এবি পার্টিসহ কয়েকটি দল বলছে- সংসদের প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষের আসন বন্টন পিআর পদ্ধতিতে হতে হবে।
শনিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ইসলামী আন্দোলনের গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেছেন দলগুলোর নেতারা। ‘গণ–অভ্যুত্থানের পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার, গণহত্যার বিচার এবং জাতীয় নির্বাচনের পদ্ধতি’ শীর্ষক এ আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, পিআর পদ্ধতি হচ্ছে ‘মাদার অব অল রিফর্ম’।
পিআর পদ্ধতিতে স্থিতিশীল সরকার গঠিত হবে না- বিএনপির এ সমালোচনার জবাবে চরমোনাই পীর বলেছেন, ঘন ঘন সরকার বদল আর রাজনৈতিক অস্থিতিশীল হওয়া এক কথা নয়। ইতালিতে ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন হলেও রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল দেশ। আবার বাংলাদেশে ১৯৮১ সাল থেকেই একই সরকার দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকলেও স্থিতিশীলতা আসেনি। জোটের রাজনীতির কারণে বাংলাদেশেও সরকারের স্থিতিশীল নিয়ে দুঃশ্চিন্তা নেই।
পিআর পদ্ধতিতে আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে না- এ সমালোচনার জবাবে ইসলামী আন্দোলনে আমির বলেছেন, জাতিগত, ভাষাগত বিবেচনায় বাংলাদেশ একক ধারার দেশ। স্থানীয় প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি মুখ্য, যেসব ভাষা, নৃতত্ত্ব, সংস্কৃতি ও ধর্মের বিভাজন রয়েছে। তারপরও পিআর পদ্ধতিতেও ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব, তুরস্কের মতো বিভাগভিত্তিক নির্বাচনের মাধ্যমে।
পিআর পদ্ধতিতে সংসদীয় আসন থেকে এমপি নির্বাচিত না হওয়া, জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন থেকে বঞ্চিত হবে- এ সমালোচনার জবাবে রেজাউল করীম বলেছেন, এলাকার উন্নয়ন সংসদ সদস্যদের কাজ নয়। এমপিরা বৈষম্যহীন নীতি প্রণয়ন করলে, দেশে সর্বত্র উন্নয়ন হবে। আর উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। পিআরে এমপি প্রার্থী না থাকায়, কেউ ভোট ডাকাতির জন্য মরিয়া হবে না। ফলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
পিআর পদ্ধতিকে সংস্কারের সুরক্ষার একমাত্র উপায় আখ্যা দিয়ে বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে চরমোনাই পীর বলেছেন, জুলাই সনদের আইনি মর্যাদা নিয়েও মতানৈক্য রয়েছে। ফলে এখন চাপে পড়ে সংস্কারে রাজি হলেও পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার সংস্কার রাখবে কিনা অনিশ্চয়তা আছে। ৪০ থেকে ৪৯ শতাংশ ভোটে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়ে একক কর্তৃত্বে সংবিধান কাটাছেঁড়ারও নজির রয়েছে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় আগামী নির্বাচনেও একই পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সংস্কার ভেস্তে যেতে পারে।
ইউডি/এবি

