আলু এসেছে টমেটোর কাছ থেকে: গবেষণা
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০৪ আগস্ট, ২০২৫, আপডেট ১০:০০
বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় খাদ্যশস্য আলু, যা আজ মানুষের প্রধান খাদ্যের অন্যতম। এই আলুর উৎপত্তি নিয়ে এতদিন ছিল নানা রহস্য। এবার বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন, প্রায় ৯০ লক্ষ বছর আগে টমেটোর একটি বুনো পূর্বপুরুষ ও আলুর মতো দেখতে কিন্তু গুটি না জন্মানো এক উদ্ভিদ Etuberosum-এর মিলনের মাধ্যমেই আধুনিক আলুর সূচনা হয়েছিল।
চীনের অ্যাগ্রিকালচারাল জিনোমিক্স ইনস্টিটিউট ও লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষকরা বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত ৪৫০টি আলু ও আলুর জাতভাই বুনো গাছের জিন বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
আলু, টমেটো ও Etuberosum একই গোষ্ঠী Solanum-এর অন্তর্ভুক্ত, যার অন্তত ১৫০০ প্রজাতি রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেন, টমেটো গাছ থেকে পাওয়া এক বিশেষ জিন SP6A আলুকে গুটি (tuber) উৎপাদনের সংকেত দেয়, আর Etuberosum গাছের IT1 নামের এক জিন সেই গুটি বাড়িয়ে তোলার ভূমিকা নেয়। দুই গাছের এই জিন একসাথে না মিললে আলু গুটি তৈরি করতে পারত না।
এই গুটি তৈরি করার ক্ষমতাই ছিল আলুর টিকে থাকার চাবিকাঠি। কারণ, আন্দিজ পর্বতমালার ঠান্ডা ও কঠিন পরিবেশে গাছের জন্য নিচে মাটির নিচে পুষ্টি সঞ্চয়ের প্রয়োজন হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আলু চাষ শুরু করে এবং এটি মানব খাদ্য ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই গবেষণার ফলে ভবিষ্যতে আরও টেকসই, রোগ প্রতিরোধী এবং পরিবেশ সহনশীল আলু উৎপাদনের পথ উন্মুক্ত হবে। এখনকার চাষযোগ্য আলু বীজের মাধ্যমে নয়, গুটি কেটে চাষ করা হয়। এতে সব গাছ হয় জেনেটিকভাবে একরকম, ফলে নতুন রোগ বা কীট এসে পুরো ফসল ধ্বংস করতে পারে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া বিজ্ঞানীরা মনে করেন, টমেটোর কিছু জিন আবার আলুতে ফিরিয়ে এনে বীজ থেকে চাষযোগ্য নতুন জাত তৈরি করা যেতে পারে, যা রোগ বা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আরও প্রতিরোধী হবে।
তাদের মতে, আলুর জন্ম এক আকস্মিক ঘটনাচক্রের ফল—যেখানে দুই ভিন্ন উদ্ভিদের মিলনে এক নতুন উদ্ভিদের সূচনা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে মানুষের খাদ্য ইতিহাস পাল্টে দেয়।
ইউডি/কেএস

