সাহিত্য থেকে সিনেমা বহুমাত্রিক জহির রায়হান

সাহিত্য থেকে সিনেমা বহুমাত্রিক জহির রায়হান

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) ২০২৫, আপডেট ১২:১৭

বাংলাদেশের সাহিত্য ও চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসে জহির রায়হান এক বিরল প্রতিভা। তিনি শুধু একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা নন, ছিলেন ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও সাংবাদিকও। আজ তার জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক বহুমাত্রিক এই সৃষ্টিশীল মানুষের জীবন ও কর্মকে।

১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট ফেনীর মিজানগরে জন্মগ্রহণ করেন জহির রায়হান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে পড়াশোনা করলেও খুব অল্প বয়স থেকেই যুক্ত হন রাজনীতি, সাহিত্য ও সাংবাদিকতার সঙ্গে। লেখক হিসেবে তিনি খ্যাতি পান ‘বরফ গলা নদী’, ‘আরেক ফাল্গুন’, ‘হাজার বছর ধরে’র মতো উপন্যাসের মাধ্যমে। এর মধ্যে ‘হাজার বছর ধরে’ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা সৃষ্টি হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং ১৯৬৪ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।

সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও তিনি নিজের স্বাক্ষর রাখেন। সহকারী পরিচালক হিসেবে যাত্রা শুরু করে অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন দেশের সবচেয়ে আধুনিক ও সাহসী নির্মাতাদের একজন। তার নির্মিত কখনো আসেনি (১৯৬১), কাচের দেয়াল (১৯৬৩), বেহুলা (১৯৬৬) এবং বিশেষ করে জীবন থেকে নেয়া চলচ্চিত্র বাংলা সিনেমায় এক নতুন ধারা তৈরি করে। জীবন থেকে নেয়া শুধু একটি চলচ্চিত্রই নয়, বরং তা ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের দলিল।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি নির্মাণ করেন প্রামাণ্যচিত্র স্টপ জেনোসাইড, যা বাংলাদেশের গণহত্যার খবর বিশ্ব দরবারে তুলে ধরে। পরবর্তীতে তিনি লিবারেশন ওয়ার, ইনোসেন্ট মিলিয়ন্সসহ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আরও কয়েকটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন।

কেবল সাহিত্য বা চলচ্চিত্র নয়, সমাজ ও রাজনীতির প্রতিও তার দায়বদ্ধতা ছিল স্পষ্ট। স্বাধীনতার পরপরই নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এই শিল্পী আজও রহস্যাবৃত এক ট্র্যাজেডি। তবে তার সৃষ্টিকর্ম আজও জীবন্ত, আজও অনুপ্রেরণার উৎস।

জহির রায়হান দেখিয়েছিলেন— সাহিত্য ও সিনেমা কেবল বিনোদন নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ারও হতে পারে। তাই তিনি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক, সমানভাবে আলোচিত।

ইউডি/রেজা

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading