সাংবাদিকরা পানি-বিদ্যুৎহীন তাঁবুতে থেকে খবর সংগ্রহ করছেন
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৫, আপডেট ১৩:১৫
গাজায় সাংবাদিকরা অস্বাভাবিক পরিবেশে কাজ করছেন। যেখানে কাজ করছেন সেখানেই তাঁবুতে ঘুমাচ্ছেন। সেখানে নেই পর্যাপ্ত পানি, বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেট। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক আবদুল্লাহ মিকদাদ বলেন, তাঁবুগুলো গরমে গ্রিনহাউস আর শীতে রেফ্রিজারেটর হয়ে থাকে।
বিদ্যুৎ না থাকায় সাংবাদিকদের হাসপাতালের কাছে থেকে তথ্য পাঠায়। শুধুমাত্র হাসপাতালেই জেনারেটর চালু আছে। কিন্তু এসব স্থানে থেকেও নিরাপত্তা নেই। ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৮৯ সাংবাদিক। গত তিন বছরের সম্মিলিত পুরো বিশ্বব্যাপী এই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে।
আল জাজিরার সংবাদদাতা আনস আল-শরিফসহ অনেক সাংবাদিক সরাসরি হামলায় নিহত হয়েছেন। যদিও ইসরায়েল দাবি করে তারা সন্ত্রাসীদের টার্গেট করে। এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোন প্রমাণ দেয় নি।
গাজায় অনেক সাংবাদিক অনিয়মিত ও অনিরাপদ চুক্তিতে কাজ করছেন। অনেকেই এর আগে কখনো সাংবাদিকতা করেননি। তাদের কোন স্থায়ী আয়, বীমা বা নিরাপত্তা নেই।
ক্ষুধা আর ক্লান্তির মধ্যেও তারা কাজ করে যাচ্ছেন। সাংবাদিক আহমেদ জালাল জানান, এক কাপ কফি আর কিছু ছোলাই তাদের দিনের খাবার। তার ছেলে গুরুতর অসুস্থ কিন্তু তারা কোন চিকিৎসা পাচ্ছে না।
ঘাদা আল-কুর্দ জানান, যুদ্ধ তাদের আবেগ প্রকাশের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে তারা একদিকে সংবাদ সংগ্রহ করছেন। অন্যদিকে ক্ষুধা ও মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নিজেদের পরিবারকে টিকিয়ে রাখার লড়াই চালাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো খবরের জন্য গাজার স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর নির্ভর করে। কারণ, ইসরায়েল বিবিসি নিউজসহ বিদেশি মিডিয়াকে তাদের দেশের সংবাদ সংগ্রহ করতে দেয় না। এজন্য মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশনের ২৭টি দেশ ইসরায়েলের কাছে গাজায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার চেয়েছে। পাশাপাশি তারা গাজায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
ইউডি/রেজা

