স্পেন থেকে ১০০ জাহাজের বহর যাচ্ছে গাজায়
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১০:০০
‘গাজার উপর ইসরায়েলের অবৈধ অবরোধ ভেঙে ফেলার’ লক্ষ্য নিয়ে স্পেনের বন্দর শহর বার্সেলোনা ত্যাগ করেছে ত্রাণবাহী নৌকার বহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা।
সংগঠকরা এই অভিযানকে বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র মিশন হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে অন্তত ৪৪টি দেশের প্রতিনিধিরা এবং প্রায় ১০০টি জাহাজ একত্রিত হবে।
রবিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে বন্দর থেকে নৌকাগুলো যাত্রা শুরু করে। এবং ৪ সেপ্টেম্বর তিউনিসিয়ায় দ্বিতীয় দলে যোগ দেবে। এসময় অধিকার কর্মী, সহায়তা কর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় ছিল ক্রুদের বিদায় জানাতে।
যাত্রার কয়েক ঘন্টা আগে সুইডিশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থানবার্গ ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরায়েলের গণহত্যার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন।
থানবার্গ বলেছেন, “ইসরায়েল তাদের গণহত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে খুব স্পষ্ট। তারা ফিলিস্তিনি জাতিকে মুছে ফেলতে চায়। তারা গাজা উপত্যকা দখল করতে চায়। রাজনীতিবিদ এবং সরকারগুলো আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে ব্যর্থ।”
গাজায় জাহাজে করে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য অধিকারকর্মীদের দুটি প্রচেষ্টায় এর আগে ইসরায়েল বাধা দিয়েছিল। জুন মাসে, গাজা থেকে ১৮৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ইসরায়েলি বাহিনী ম্যাডলিনে থাকা ১২ জন কর্মীকে আটক করে। ওই সময় থানবার্গসহ নৌকার যাত্রীদের আটক করা হয় এবং অবশেষে বহিষ্কার করা হয়।
ফ্লোটিলা একটি নৌবহর, যা খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী সংগ্রহ করে সংকটাপন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেয়। যখন বিমান বা স্থল রুট বন্ধ থাকে বা নিরাপদ নয়, তখন এই ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়।
২০০৭ সালের পর থেকে ইসরায়েল গাজার আকাশ এবং জলসীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে, যা পণ্য ও মানুষের চলাচলকে সীমিত করছে। যুদ্ধের আগে গাজার বিমানবন্দর কার্যকর ছিল না, কারণ ২০০১ সালে ইয়াসির আরাফাত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে ধ্বংস হয়ে যায়।
গাজার অবরোধ ভাঙতে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এই ফ্লোটিলা সমুদ্রপথে এগোতে যাচ্ছে, পাশাপাশি এটি একটি শক্তিশালী বার্তা প্রেরণ করছে যে, অবরোধ অবিলম্বে শেষ হতে হবে।
ইউডি/কেএস

