রাখাইনের স্কুলে সেনাবাহিনীর হামলা, শিক্ষার্থীসহ নিহত ১৮

রাখাইনের স্কুলে সেনাবাহিনীর হামলা, শিক্ষার্থীসহ নিহত ১৮

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১৯:২০

মিয়ানমারের পশ্চিম রাখাইন রাজ্যের একটি গ্রামে দুটি বেসরকারি স্কুলে বিমান হামলা চালিয়েছে সেনাবাহিনী। হামলায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।

শুক্রবার রাতে আরাকান আর্মি (এএ) যারা এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে, তার মুখপাত্র খাইং থুখা একটি বার্তা সংস্থাকে জানান, একটি জেট ফাইটার কিয়াউকতাও শহরের থায়েট থাপিন গ্রামের পাইনিয়ার পান খিন এবং আ মাইন থিট প্রাইভেট হাই স্কুলে দুটি বোমা ফেলেছে।

তিনি বলেন, নিহতদের বেশিরভাগই ১৭ থেকে ১৮ বছর বয়সী বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী।

আল জাজিরা জানায়, গ্রামের পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, কারণ এলাকার ইন্টারনেট এবং সেলফোন পরিষেবা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে এএ বলেছে, নিরীহ শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর জন্য আমরা নিহতদের পরিবারের মতোই দুঃখিত।

হামলার জন্য সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে সংগঠনটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এএ হলো রাখাইন জাতিগত সংখ্যালঘু আন্দোলনের সামরিক শাখা, যারা মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে স্বায়ত্তশাসন চায়। তারা ২০২৩ সালের নভেম্বরে রাখাইনে আক্রমণ শুরু করে এবং এরপর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আঞ্চলিক সেনা সদর দপ্তর এবং রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয় থেকে ২৫০ কিলোমিটার (১৫০ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত কিয়াউকতাও গত ফেব্রুয়ারিতে এএ দখল করে নেয়।

১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে সেনাবাহিনী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সামরিক সরকারে বিরুদ্ধে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো প্রতিবাদ শুরু করলে জান্তা সরকার কঠোর হাতে তা দমন করে। এরপর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অস্ত্র হাতে তুলে নেয় এবং জান্তা সরকারকে হটাতে লড়াই চালায়।

বেসরকারি সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান অনুসারে, তখন থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৭,২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading