ডাকে ব্যালট পৌঁছানোর ব্যর্থতার হার ২৪ শতাংশ, এটি বড় চ্যালেঞ্জ: ইসি

ডাকে ব্যালট পৌঁছানোর ব্যর্থতার হার ২৪ শতাংশ, এটি বড় চ্যালেঞ্জ: ইসি

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১৭:১৫

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, পোস্টাল ব্যালটের কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান দুটি চ্যালেঞ্জ হলো—ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা এবং আদালতের আদেশে প্রার্থী তালিকা পরিবর্তন হলে ভোট বাতিলের ঝুঁকি। এছাড়া বিশ্বব্যাপী ডাকযোগে ব্যালট পৌঁছানোর ব্যর্থতার হার প্রায় ২৪ শতাংশ, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে আউট অব কান্ট্রি (ওসিভি) বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডন ও লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে অনলাইনে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হতে চলেছে। এবারই প্রথম পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তারা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচন কমিশনের দীর্ঘ গবেষণার পর পোস্টাল ব্যালট এবং অনলাইন ভোটিং—এই দুটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। তবে আপাতত প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনলাইন ভোটিং সম্ভব হচ্ছে না। তাই পোস্টাল ব্যালটকেই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ভোটারদের প্রথমে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। যারা ইতোমধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রধারী (এনআইডি), তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছেন। তাদের শুধুমাত্র ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং’ এর জন্য আলাদাভাবে নিবন্ধন করতে হবে। নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে একটি অ্যাপ চালু হবে, যার মাধ্যমে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। প্রতিটি অঞ্চলের জন্য ৭ থেকে ১০ দিন সময় দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে এ সময় আরও বাড়ানো হতে পারে।

তিনি বলেন, নিবন্ধনের পর, আগ্রহী ভোটারদের কাছে আগেই প্রতীক সম্বলিত ব্যালট পাঠানো হবে। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে তাদের চূড়ান্ত তালিকা দেখতে পারবেন এবং সেই অনুযায়ী ভোট দিতে পারবেন। এরপর ব্যালটটি ডাকযোগে ফেরত পাঠাতে হবে। এছাড়া, এই প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের কোনো খরচ দিতে হবে না। প্রতিটি ভোটের জন্য সরকারের প্রায় ৭০০ টাকা খরচ হবে।

এ কমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধনের হার খুব কম। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আগ্রহ বেশি। ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা সীমিত হলেও আমরা ব্যর্থ হবো না।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সানাউল্লাহ বলেন, যে স্কেলেই হোক না কেন, এটি শুরু করা জরুরি। আমরা চাই প্রবাসীরা শুধু আজ নয়, আগামীতেও আমাদের পাশে থাকবেন। নভেম্বরের মধ্যে অ্যাপটি চালু হলে তা প্রবাসীদের কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading