যুদ্ধের বর্ষপূর্তির দিনেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার (০৭ অক্টোবর) ২০২৫, আপডেট ২২:১৫
দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বর্ষপূর্তিতে মঙ্গলবার গাজার বিভিন্ন স্থানে ট্যাংক, যুদ্ধজাহাজ ও জেট বিমানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। কোনও যুদ্ধবিরতি কার্যকর না থাকায় হামলার তীব্রতা থামেনি, বরং বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতেই মিসরের শার্ম আল-শেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বসেছে ইসরায়েল ও হামাস। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনুস ও উত্তর গাজা শহরে রাতভর আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে গোলাবর্ষণের খবর দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, গাজা থেকে রকেট হামলার জবাবে তারা অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সীমান্তবর্তী নেটিভ হাসারা কিবুটজে বিমান হামলার সতর্ক সাইরেন বাজে।
এদিকে, ইসরায়েলে হামাসের ২০২৩ সালের হামলার দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ হয়েছে। তেল আবিবের ‘হোস্টেজেস স্কয়ার’ ও নোভা সঙ্গীত উৎসবস্থলে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ওই উৎসবে হামলায় নিহত হন ৩৬৪ জন ইসরায়েলি।
শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যস্থতাকারী কাতার জানিয়েছে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বাস্তব প্রয়োগের জন্য বহু ধাপ এখনও স্পষ্ট নয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, পরিকল্পনায় ২০টি ধারা রয়েছে, প্রতিটি ধারারই মাঠপর্যায়ে কীভাবে বাস্তবায়ন হবে সেটির ব্যাখ্যা দরকার।
তিনি আরও বলেন, হামাস যদি ২০২৩ সালের হামলায় জিম্মি করা ইসরায়েলিদের ফিরিয়ে দেয়, তবে সেটিই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারে।
গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের এক-তৃতীয়াংশ শিশু। অঞ্চলটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
গাজার বাসিন্দা মোহাম্মদ দিব বলেন, দুই বছর ধরে আমরা ভয়, মৃত্যু আর গৃহহীনতার মধ্যে বেঁচে আছি। এখন শুধু শান্তির আশাই বাকি।
এক মাস আগে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে। ইসরায়েল সেই প্রতিবেদনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও কলঙ্কজনক’ বলে নাকচ করেছে।
সহিংসতার মধ্যেই ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেছেন, এখনই সুযোগ জিম্মিদের মুক্তি ও যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের। এই মুহূর্তটি কাজে লাগাতে হবে, যাতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি হয়।
২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, হামাস নেতাদের টার্গেট করে হত্যা এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ওপরও হামলা চালায়। এতে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও নিহত হন এবং ইসরায়েল কিছু সময়ের জন্য মার্কিন বাহিনীর সহায়তায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালায়।
ইউডি/এবি

