রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ৫০ লাখ ডলার দেবে দক্ষিণ কোরিয়া
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, আপডেট ১০:০০
বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় ৫০ লাখ ডলার দেবে দক্ষিণ কোরিয়া। সোমবার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে জানানো হয়, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রমে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউএনএইচসিআর তাদের অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তি ও সুরক্ষা কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহে সহায়তা হিসেবে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে সিউল।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চাহিদা ও দুর্বলতা ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শরণার্থীদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি। এমন বাস্তবতায় দক্ষিণ কোরিয়ার এই সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবন রক্ষাকারী সহায়তার তীব্র ঘাটতির এ সময় দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ ও সরকারের অটল সমর্থনের জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাদের এই সহায়তা শরণার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার থেকে বহু রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এ ঘটনার আট বছর পার হলেও ১১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী তাদের চাহিদা পূরণের জন্য এখনও মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ২০২৪ সালের শুরু থেকেই মিয়ানমারের রাখাইনে নতুন করে অস্থিরতার কারণে আরও প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার মানবিক সহায়তা চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত সর্বমোট এক কোটি ডলারের অর্থ সহায়তা এবং দ্বিতীয়বারের মতো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চালের অনুদান দেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তার উদ্দেশ্য আমাদের দৃঢ় ও অবিচল প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
দক্ষিণ কোরিয়ার এই অনুদান প্রতিবন্ধী শরণার্থীদের সহায়তায় ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে থাকবে প্রাথমিক শনাক্তকরণ, পুনর্বাসন ও সহায়ক যন্ত্র সরবরাহ, মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা এবং সহজে ব্যবহার করা যাবে এমন গোসলখানা ও শৌচাগার নির্মাণ।
এ ছাড়া শরণার্থীদের জন্য এলপিজি সরবরাহ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে রান্নার পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করতে পারবে তারা। যা খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়তা করবে।
ইউডি/কেএস

