বৈষম্য দূর না হলে সুষ্ঠু বিচার, নির্বাচন ও সংস্কার সম্ভব নয়: ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বৈষম্য দূর না হলে সুষ্ঠু বিচার, নির্বাচন ও সংস্কার সম্ভব নয়: ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার (৮ নভেম্বর) ২০২৫, আপডেট ২২:৩৫

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়ন জরুরি বলে মনে করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে না পারলে বিচার, নির্বাচন ও সংস্কার কোনোটিই সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হবে না। এ জন্য কার্যকর বৈষম্যবিরোধী আইন প্রয়োজন।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘একটি কার্যকর বৈষম্যবিরোধী আইন প্রবর্তন’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশে বৈষম্য নিরসনের আইনি প্রেক্ষাপট, বর্তমান বাস্তবতা ও করণীয় নিয়ে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন।

সংলাপে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, কয়েক বছর ধরে আমাদের মনে হয়েছে, বৈষম্য মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো জরুরি। গত সরকারের সময়ও সর্বজনীন বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, খসড়াও তৈরি হয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে বৈষম্যবিরোধী চেতনা উন্মোচিত হয়েছে, সেটি আমাদের উৎসাহিত করেছে। এটি শুধু কোটা আন্দোলন নয়, বরং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন।

এখনই উপযুক্ত সময় সেই চেতনাকে আইনি কাঠামোয় রূপ দেওয়ার। তিনটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। সেগুলো হলো– বিচার, নির্বাচন ও সংস্কার। ন্যায্য বিচার চাইলে নাগরিকের সুরক্ষা দিতে হবে, তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তেমনি সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর সংস্কারের ক্ষেত্রেও একটি সর্বজনীন বৈষম্যবিরোধী আইনের প্রবর্তন অপরিহার্য।

একইভাবে যদি আমরা চাই নির্বাচন, তাহলে অবশ্যই এই সর্বজনীন বৈষম্যবিরোধী আইনের প্রবর্তন প্রয়োজন। এই আইনের প্রবর্তন নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি বার্তাবরণ পরিবেশ সৃষ্টি করবে। তাঁর মতে, সব ধরনের বৈষম্য নিয়ে কথা বলতে হবে।

দেবপ্রিয় বলেন, আমরা বৈষম্যবিরোধী কথা বলব, কিন্তু কোন কোন বৈষম্য নিয়ে কথা বলব আর কোন কোন বৈষম্য নিয়ে কথা বলব না, এটা তো হতে পারে না। এই সর্বজনীনতা আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। মানুষের নাগরিক অধিকারের সুষম বিকাশের জন্য আমি তার সাংস্কৃতিক বিকাশকে বন্ধ করে দেব, এটা তো হতে পারে না।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading