দুর্যোগের প্রাথমিক পূর্বাভাস জীবনরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

দুর্যোগের প্রাথমিক পূর্বাভাস জীবনরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ২০:৪৫

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেছেন, আমরা এমন এক জাতির প্রতিনিধিত্ব করি, যারা দুর্যোগের সঙ্গে নিত্য বসবাস করে এবং অকুতোভয়ে দুর্যোগের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। আমাদের কাছে প্রতিটি মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান, তাই তাদের জান- মালের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করাই সরকারের লক্ষ্য।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবন মিলনায়তনে সকলের জন্য প্রাথমিক পূর্বাভাস (Early Warning for All) জাতীয় রোডম্যাপ প্রচার কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

এবারের আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Fund Resilience, Not Desister’ এর কথা উল্লেখ করে ফারুক ই আজম বলেন, দুর্যোগ সংঘটিত হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি পূরনে ব্যয় করার চেয়ে দুর্যোগ সহিষ্ণুতা গড়ে তুলতে আগাম বিনিয়োগ করাই অধিক কার্যকর, টেকসই এবং জনকল্যাণমূলক।

তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত একজন দরিদ্র মানুষকে প্রায় শূন্য অবস্থা থেকে জীবন পুনরায় শুরু করতে হয়। এ কারণেই সকলের জন্য প্রাথমিক পূর্বাভাস Early Warning For All রোডম্যাপ জনস্বার্থ এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপদেষ্টা বলেন, আপনারা সকলেই জানেন ১৯৭০সালের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে এক রাতের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। তখন কোন আধুনিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা ছিল না ছিলোনা প্রযুক্তিগত সতর্কবার্তা কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে। মানুষ জানতেই পারেনি যে একটি মৃত্যু ঝড় তাদের ওপর আঘাত হানতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আজকে প্রযুক্তিগত অগ্ৰগতি নিয়ে কথা বলতে গেলে পূর্বের ভয়াবহ দুর্যোগের স্মৃতি আমাদের গভীর ভাবে নাড়া দেয়। আমরা উপলব্ধি করি দুর্যোগগের প্রাথমিক পূর্বাভাস জীবনরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

ফারুক ই আজম আরও বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ১৯৭০ কিংবা ১৯৯১ সালের দুর্যোগের পরও দেশীয় গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আমরা যথেষ্ট অগ্ৰগতি অর্জন করতে পারিনি। জাতীয়ভাবে গবেষণার প্রতি আমাদের মনোনিবেশ আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন ছিল। তবুও আজ আমরা সৌভাগ্যবান স্যাটেলাইট ভিত্তিক ওয়েদার মডেল, ডপলার রাডার, ফ্ল্যাশ – ফ্লাড মডেল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর পূর্বাভাস, মোবাইল ভিত্তিক সতর্কবার্তা সবকিছু এখন আমাদের হাতে রয়েছে।

তিনি বলেন, উপকুল , পাহাড়ি অঞ্চল, নগর এলাকা ,নদীভাঙন প্রবন এলাকা সব ক্ষেত্রেই দুর্যোগ সংক্রান্ত তথ্য তৈরি হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূতে নিকোলাস উইকস, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) মো. এমদাদ উল বারী, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব কবির মো. আশরাফ আলম, বক্তৃতা করেন।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading