বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে বড় ধাক্কা
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার (০৪ ডিসেম্বর) ২০২৫, আপডেট ২৩:৪০
বিশ্ববাজারে অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, খুচরা বাজারে ক্রয়ক্ষমতার পতন এবং বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের শুরুর পাঁচ মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির প্রবৃদ্ধি কার্যত থমকে গেছে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য বলছে, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়টিতে আরএমজি রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ০ দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ, প্রায় শূন্য প্রবৃদ্ধির অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে দেশের প্রধান রফতানি খাতটি।
নিটওয়্যারে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি, খানিকটা ভরসা ওভেনে এ সময়ে রফতানির ভেতরে খাতভিত্তিক পার্থক্য বেশ চোখে পড়ার মতো। নিটওয়্যার রফতানি আয় হয়েছে ৮ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১.০০ শতাংশ কম। বিপরীতে ওভেন রফতানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকা ও ব্রিটেন— এই তিন বড় বাজারে ভোক্তাদের চাহিদা গত এক বছরে ধারাবাহিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শীতকালীন পণ্যের বড় একটি অংশ যেহেতু নিটওয়্যার—এ খাতে অর্ডার হ্রাস সরাসরি আয়ের ওপর চাপ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘বিশ্ববাজারে চাহিদা ওঠানামার মধ্যেও বাংলাদেশ অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে নিটওয়্যার খাতে অর্ডার কমে যাওয়া আমাদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিচ্ছে— নতুন বাজার, নতুন পণ্য এবং প্রযুক্তি বিনিয়োগ ছাড়া ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হবে।’
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে রফতানি আয় হয়েছে ৩.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় ৫ শতাংশ কম। খাতভিত্তিক পতন ছিল— নিটওয়্যারে: ১.৬২ বিলিয়ন ডলার (৬.৮৯% হ্রাস)। ওভেনে: ১.৫২ বিলিয়ন ডলার (২.৯০% হ্রাস)।
ইউডি/এবি

