যে কারণে সংসদ ভেঙে দিলেন থাই প্রধানমন্ত্রী

যে কারণে সংসদ ভেঙে দিলেন থাই প্রধানমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১৩:২৫

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নতুন সংঘর্ষের পর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছেন। রয়্যাল ডিক্রির মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছে, আগামী ৪৫–৬০ দিনের মধ্যে দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

অনুতিন জানান, সীমান্ত উত্তেজনা এবং অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিন মাস আগে গঠিত সংখ্যালঘু সরকার কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না।

তিনি বলেন, ‘উপযুক্ত সমাধান হলো পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া, যা জনগণের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার পথ।’

ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিক হওয়া অনুতিন আগস্ট ২০২৩ থেকে দেশের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, জানুয়ারির শেষের দিকে পার্লামেন্ট ভাঙার সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে অনাস্থা প্রস্তাবের মুখে এবার আগেই নির্বাচন ঘোষণা করা হলো।

গত মাসে দক্ষিণ থাইল্যান্ডে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হওয়ায় অনুতিন ও তার ভুমজাইথাই পার্টি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। ওই বন্যায় অন্তত ১৭৬ জন নিহত হয়।

পার্লামেন্ট ভাঙার ঘোষণার সময় দেশটি কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষের মধ্যে রয়েছে। সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

অনুতিন রয়্যাল ডিক্রিতে বলেন, ‘সরকার দেশের জরুরি সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে… কিন্তু দেশ পরিচালনায় স্থিতিশীলতা দরকার।’

প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত আসে এমন সময়ে, যখন তার সরকার পিপল’স পার্টি থেকে আর সমর্থন পাচ্ছে না। এই দলটি পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় দল হলেও তারা অভিযোগ করছে, ভুমজাইথাই পার্টি পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। শুক্রবার তারা অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছিল।

গত এক বছরে থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। আদালতের রায়ে দুইজন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। এর আগে নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে অনুতিনের পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী প্যেতংটার্ন শিনাওয়াত্রা ও স্রেত্থা থাভিসিন বরখাস্ত হন।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading