১৪ দলীয় জোটের সব দল নিষিদ্ধ চেয়ে উকিল নোটিস

১৪ দলীয় জোটের সব দল নিষিদ্ধ চেয়ে উকিল নোটিস

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ২০২৫, আপডেট ২৩:৫০

আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটের সব দলকে নিষিদ্ধ করতে উকিল নোটিস দিয়েছেন এক আইনজীবী।

মঙ্গলবার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের পক্ষে নোটিসটি পাঠিয়েছেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

নোটিসে বলা হয়, এই জোটের দলগুলো সংবিধানের সব মৌলিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবে অপহরণ, হত্যা ও গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল।

এই রাজনৈতিক জোট ২০০৯, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে কারচুপি করে বলেও নোটিসে অভিযোগ করা হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), ইসি সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন মন্ত্রণালয়কে এ নোটিস পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ১৪ দলীয় জোট গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৫ অগাস্ট পর্যন্ত ১৪০০ জনকে ‘নৃশংসভাবে’ হত্যা করে এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়।

“সরকার ১২ মে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত করে। কিন্তু ১৪ দলীয় জোটের কার্যক্রম স্থগিত করতে ব্যর্থ হয়, যদিও তারা আওয়ামী লীগের মতো একই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে।”

নোটিসে বলা হয়, “যেহেতু এটা স্পষ্ট যে আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলীয় জোট একসঙ্গে কাজ করেছে এবং একসঙ্গে ডুবে গেছে, তাই তারা সবাই মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার জন্য দায়ী।

“১৪ দলীয় জোট আমাদের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে গুজব এবং ঘৃণা ছড়াচ্ছে এবং প্রকাশ্যে সামাজিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি তৈরি করছে। রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং আসন্ন নির্বাচনের উপরও বিরাট হুমকি তৈরি করছে।”

নোটিসে আরও বলা হয়, “১৪ দলীয় জোট হত্যা, লুটপাট, জাতীয় সম্পদ পুড়িয়ে ফেলার মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। সর্বশেষ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদীকে মাথায় গুলি করা হয় এবং উক্ত জোট জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে।”

বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময় ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার গুলিস্তানে তখনকার আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়।

এ ঘটনার পর ২৩ দফার ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সে বছরই রাজনীতির মাঠে আসে ১৪ দলীয় জোট। সে হিসাবে জোটটির বর্তমান বয়স ২১ বছর।

‘মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র এবং অসাম্প্রদায়িকতার’ আদর্শে যাত্রা শুরুর পর গণঅভ্যুত্থানের মুখে ছত্রভঙ্গ এ জোটে আওয়ামী লীগ, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জাতীয় পার্টি (জেপি), ন্যাপ (মোজাফফর) ছাড়াও আছে- গণতন্ত্রী পার্টি, সাম্যবাদী দল (দিলীপ বড়ুয়া), তরিকত ফেডারেশন, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, বাসদ (রেজাউর রশিদ)। অর্থাৎ ১৪ দলীয় বলা হলেও জোটে আছে ১২ দল।

বিএনপি-জামায়াত সরকারের বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলনের পর নানা ঘটনাপ্রবাহে ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বড় বিজয় নিয়ে ক্ষমতায় আসে ১৪ দল ও জাতীয় পার্টিকে নিয়ে গড়া মহাজোট।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading