ইরানে নিহত বেড়ে ১৯২, দমনপীড়নে ‘ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের’ শঙ্কা
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, আপডেট ২৪:১০
ইরানের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনে অন্তত ১৯২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
রবিবার এমন তথ্য দিয়েছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ‘ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের’ শঙ্কা বাড়াচ্ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
নরওয়েভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ১৯২ জন বিক্ষোভকারী নিহতের বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।
৬০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ। ফলে তথ্যপ্রবাহ বন্ধ থাকায় প্রকৃত সংখ্যা জানা যাচ্ছে না। বাস্তবে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষোভ থেকে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। যা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এক বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনটি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির (৮৬) শাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও রাজধানী তেহরানসহ অন্যান্য শহরে বড় বিক্ষোভের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এএফপি যাচাই করা একটি ভিডিওতে গেছে গেছে, শনিবার রাতে তেহরান ও পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদসহ কয়েকটি শহরে নতুন করে বিক্ষোভ ও বাসিন্দারা জড়ো হয়েছেন। কিছু গাড়িতে তখন আগুন জ্বলছিল। অন্যদিকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, এমন কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, স্বজনরা তেহরানের একটি মর্গে নিহতদের শনাক্ত করতে ভিড় করছেন।
সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান (সিএইচআরআই) জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন থেকে তারা ইরানজুড়ে শত শত বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার তথ্য পেয়েছেন।
সংস্থাটি বলেছে, ‘ইরানে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। আরও প্রাণহানি ঠেকাতে বিশ্বকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’ সিএইচআরআই জানায়, হাসপাতালগুলো মানুষে ভর্তি। রক্তের মজুত কমে যাচ্ছে। অনেক বিক্ষোভকারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে চোখে গুলি করা হয়েছে।
ইউডি/এআর

