মোসাব্বির হত্যা: শ্যুটার জিন্নাতের দায় স্বীকার, ৩ আসামি রিমান্ডে
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১২ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৯:১৫
ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোসাব্বির হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার প্রধান শ্যুটার মো. জিন্নাত আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সঙ্গে এই মামলার আরও তিন আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিদের হাজির করা হলে এ আদেশ দেওয়া হয়। রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন— মো. বিল্লাল (২৯) ও মো. আব্দুল কাদির এবং মো. রিয়াজ।এদিন আসামিদের আদালতে আনা হয়।
এ সময় আসামি জিন্নাত দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য সম্মত হওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের পরিদর্শক মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম তার জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।অপরদিকে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি বিল্লাল (২৯), মো. আব্দুল কাদির ও মো. রিয়াজের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।
আসামি পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। পরে আদালত আসামিদের বক্তব্য শুনতে চাইলে আব্দুল কাদির জানান, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই। সে সময় তিনি কাজে ছিলেন।
আরেক আসামি রিয়াজ জানান, একটি ফোনকলের সূত্র ধরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। পরে আদালত প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ৭ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারের স্টার গলিতে দুর্বৃত্তরা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
পরে মুমূর্ষু অবস্থায় পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় শুক্রবার নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
শনিবার ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই শ্যুটারের একজন জিন্নাত, মূল সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল, ঘটনার পর আসামিদের আত্মগোপনে সহায়তাকারী আব্দুল কাদির ও ঘটনার আগেরদিন ঘটনাস্থল রেকিকারী মো. রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নম্বর প্লেট বিহীন একটি মোটরসাইকেল ও নগদ ৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
ইউডি/এআর

