বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার নতুন ইতিহাস, দাম বাড়বে দেশেও?

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার নতুন ইতিহাস, দাম বাড়বে দেশেও?

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৯:২০

চলমান ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও ইতিহাস গড়েছে। একই সঙ্গে নতুন রেকর্ড গড়েছে রুপার দামও। এতে যে কোনো সময় দেশের বাজারেও বাড়তে পারে দাম।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬২৭ দশমিক ৭২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে যা রেকর্ড সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছায়। ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৩৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

নেমোডটমানির প্রধান বাজার বিশ্লেষক জেমি দত্ত বলেন, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া, আর্থিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি এবং ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা আরও বাড়ছে। এসব কারণ মিলেই দামকে ওপরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

একই দিনে রুপার বাজারেও বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৯০ দশমিক ৪৬ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে। দিনে শুরুতে যা রেকর্ড সর্বোচ্চ ৯১ দশমিক ৫৩ ডলারে পৌঁছেছিল। চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, মার্কিন ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) দেখাচ্ছে যে মুদ্রাস্ফীতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বছরভিত্তিক হিসাবে এটি ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বাজারে ফেডের আরও নীতি শিথিল করার প্রত্যাশা টিকে আছে।

ডিসেম্বরে আমেরিকা মূল ভোক্তা মূল্যসূচক মাসভিত্তিক শূন্য দশমিক ২ শতাংশ এবং বছরভিত্তিক ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশিত শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ ও ২ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধির চেয়ে কম। ডিসেম্বরের জন্য মার্কিন উৎপাদক মূল্যসূচকের তথ্য দিনের শেষের দিকে প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যানকে স্বাগত জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে ‘অর্থপূর্ণভাবে’ সুদের হার কমানোর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাওয়েলকে তদন্তের সিদ্ধান্তের খবরে সমালোচনার মুখে পড়ে ফেড। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ও শীর্ষ ওয়াল স্ট্রিট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা পাওয়েলের প্রতি সমর্থন জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ এবং মার্কিন সম্পদের ওপর আস্থার ঘাটতি স্বর্ণের মতো নিরাপদ আশ্রয় সম্পদের চাহিদা বাড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীরা চলতি বছর দুটি ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমানোর আশা করছেন, যার প্রথমটি হতে পারে আগামী জুনে।

নিম্ন সুদের হার এবং ভূ-রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে স্বর্ণের মতো অ-ফলনশীল সম্পদ ভালো ফল দেয়। এএনজেড ব্যাংক এক নোটে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের ওপরে লেনদেন হতে পারে।

গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যান বলেন, রুপার ক্ষেত্রে পরবর্তী বড় লক্ষ্য ১০০ ডলার। চলতি বছর ধাতুটির দামে দুই অঙ্কের উচ্চ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।

বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও আরও বাড়তে পারে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম বাড়ানো হতে পারে।

সবশেষ গত ১২ জানুয়ারি রাতে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়েছে সংগঠনটি। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা। যা দেশের ইতিহাসে এক ভরি মূল্যবান এই ধাতুর সর্বোচ্চ দাম। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সঙ্গে সেদিন বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ৪০৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা।

এদিকে, বিশ্ববাজারে অন্য ধাতুর দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৪০৬ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ২৯ ডিসেম্বর প্লাটিনামের দাম রেকর্ড ২ হাজার ৪৭৮ দশমিক ৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। একই দিনে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৮৪০ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading