গাজা ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্যপদ ১০০ কোটি ডলারে বিক্রি করছেন ট্রাম্প

গাজা ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্যপদ ১০০ কোটি ডলারে বিক্রি করছেন ট্রাম্প

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৬:০৫

যুদ্ধবিধ্বস্ত প্যালেস্টাইনে গাজা উপত্যকা পুনর্গঠন ও সেখানে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ শান্তি বোর্ড ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

একাধিক সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা ‘বোর্ড অব পিস’ সনদের তথ্যানুযায়ী, গাজা তদারকির এই শান্তি কমিটিতে তিন বছরের মেয়াদের বেশি সময় সদস্য হিসেবে থাকতে চাইলে সদস্য দেশগুলোকে অন্তত ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার পরিশোধ করার শর্ত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউজ গাজার জন্য মার্কিন সমর্থিত শান্তি উদ্যোগের দ্বিতীয় ধাপ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে এবং প্যালেস্টাইনি এই ভূখণ্ডের পুনর্গঠন তদারকি করার জন্য তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করে।

বোর্ডের কাঠামো ও সদস্যপদের শর্তাবলি উল্লেখ করে একটি সনদ কয়েক ডজন বিশ্বনেতার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী সনদে বলা হয়েছে, “এই সনদ কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র সর্বোচ্চ তিন বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবে, যা চেয়ারম্যানের (আমেরিকার প্রেসিডেন্টের) মাধ্যমে নবায়নযোগ্য। তবে যেসব সদস্য রাষ্ট্র সনদ কার্যকর হওয়ার প্রথম বছরের মধ্যে ১০০ কোটি ডলার নগদ অর্থ প্রদান করবে, তাদের ক্ষেত্রে এই তিন বছরের সময়সীমা প্রযোজ্য হবে না।”

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই-এর শেয়ার করা একটি আমন্ত্রণপত্রের বক্তব্যে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, “এই বোর্ডটি হবে অনন্য, এর আগে কখনও এমন কিছু দেখা যায়নি!”

এই বোর্ডে যোগ দিতে আমন্ত্রিত অন্যান্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।

সনদটিতে গাজার কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা না থাকায় জল্পনা শুরু হয়েছে যে, ট্রাম্প সম্ভবত জাতিসংঘের একটি বিকল্প তৈরি করতে চাইছেন এবং এই বোর্ডের ক্ষমতা অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলেও বিস্তার করতে চাচ্ছেন। সনদে এই সংস্থাকে এমন একটি “আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে যা স্থিতিশীলতা রক্ষা, নির্ভরযোগ্য ও আইনানুগ শাসন ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং সংঘাত কবলিত বা হুমকির মুখে থাকা এলাকাগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে কাজ করবে।”

ট্রাম্প নিজেকে এই নতুন সংস্থার নির্বাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যেখানে বিতর্কিত কূটনীতিক, অর্থদাতা এবং রাজনৈতিক মিত্রদের একটি তালিকা রয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা ও সিনিয়র উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার।

ট্রাম্পের ২০ দফার গাজা রূপরেখার বেশিরভাগ লক্ষ্য এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল শত্রুতা বন্ধ করা, জিম্মি বিনিময় সহজতর করা, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, মিশরের সাথে রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়া এবং আংশিকভাবে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ওপর।

দ্বিতীয় ধাপ শুরু হওয়ার সাথে সাথে ট্রাম্প গাজার স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ এবং নবগঠিত ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’র কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান আবারো পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading