প্রশাসন একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে: জামায়াত
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট :২০
দেশের প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না—তা নিয়ে জনগণের মধ্যে গভীর সংশয় ও হতাশা তৈরি হবে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. তাহের অভিযোগ করেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাত এখন দৃশ্যমান।
বিশেষ করে যেসব জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) একইসঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের নিরপেক্ষতায় ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তিনি জানান, এ ধরনের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা জামায়াত ইতোমধ্যে প্রস্তুত করেছে। তবে আপাতত বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং এখনো নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
গত দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়ার বিষয়টিও নির্বাচনী মাঠে সমতার নীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের নায়েবে আমির।
ডা. তাহের বলেন, কারো নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু একটি প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আচরণ নিশ্চিত করা না হলে সেটি স্পষ্টতই পক্ষপাতমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি এ ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়বে এবং এর দায় এড়াতে পারবে না কমিশন।
ডা. তাহের জানান, এসব বিষয় তারা সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার নজরে এনেছেন। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন যথাযথ ভূমিকা না নিলে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপও কামনা করা হয়েছে।
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, দলটি বিশ্বাস করে প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চান।
তবে তার আশপাশে থাকা কিছু উপদেষ্টা তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইউডি/এআর

