তরুণদের অংশীদার না করলে শিক্ষা সংস্কার সম্ভব নয়: সুজান ভাইজ

তরুণদের অংশীদার না করলে শিক্ষা সংস্কার সম্ভব নয়: সুজান ভাইজ

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৪ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১২:৪০

তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইউনেসকোর হেড অব অফিস ও রিপ্রেজেন্টেটিভ টু বাংলাদেশ সুজান ভাইজ।

তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার তরুণদের অংশীদার হিসেবে যুক্ত করতে হবে। তাদের শুধু নির্দেশনা দেওয়া নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশ বানানোই সময়ের দাবি।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সুজান ভাইজ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ যে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে তরুণদের আবেগ, দায়বদ্ধতা ও পরিবর্তনের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদাহরণ তৈরি করেছে। তাছাড়া বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রতিটি শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও সমাজের জন্যও অপরিহার্য। এর প্রভাব ব্যক্তি থেকে শুরু করে পুরো সমাজজুড়েই বিস্তৃত।

তিনি বলেন, তরুণরা ইতোমধ্যে নানা উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে। বিজ্ঞান মেলা কিংবা স্কুলভিত্তিক উদ্ভাবনী কার্যক্রমে তরুণদের সৃজনশীলতা স্পষ্ট। তবে একই সঙ্গে কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ২০২৩ সালের সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, অষ্টম শ্রেণির ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাংলা ভাষায় দক্ষতা প্রয়োজনীয় মানে পৌঁছায়নি। গণিত দক্ষতার হার আরও কম। ভাষাজ্ঞান ও গণনাজ্ঞান জীবনধারণের মৌলিক দক্ষতা হলেও এই ঘাটতি উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের মূল উদ্দেশ্যই হলো এই দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সবাই মিলে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করা।

ইউনেসকোর যুব কর্মসূচির দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, ইউনেসকো তরুণদের অংশীদার হিসেবে দেখে। তরুণরা উপদেশ শুনতে চায় না, তারা মাঠে থেকে কাজ করতে চায়, নিজেদের ধারণা দিতে চায়। দক্ষতা, উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি তাদের। পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাদান পদ্ধতি কীভাবে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে তরুণদের অনেক বাস্তবসম্মত প্রস্তাব রয়েছে।

শিক্ষা সংস্কারে শিক্ষার্থীদের অংশীদার হিসেবে যুক্ত করলে আগামী কয়েক বছরে শিক্ষা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর সম্ভব হবে উল্লেখ করে সুজান ভাইজ আরও বলেন, শিক্ষকরা কেবল জ্ঞানদাতা নয় বরং তারা পরামর্শক, পরামর্শদাতা ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের সহযাত্রী।

এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইউনেনকো ও ইউনিসেফ আগামী চার বছর শিক্ষক পেশাগত উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেনকো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনীর চিঠির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা ও বিএনসিইউ চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব এবং বিএনসিইউ সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading